পুলিশ প্রধান (আইজিপি) বাহারুল আলম কূটনৈতিক মর্যাদার (লাল) পাসপোর্ট সমর্পণ করে সাধারণ পাসপোর্ট নিতে চান। এ উদ্দেশ্যে তিনি সম্প্রতি সরকারি পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যুর জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনাপত্তি সনদ (এনওসি) চেয়ে চিঠি দিয়েছেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে খোদ আইজিপির এ সিদ্ধান্ত প্রশাসনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ শেষ হতে এখনও প্রায় আট মাস বাকি থাকলেও কেন তিনি এখনই সাধারণ পাসপোর্ট নিতে চান—এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সচিবালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরে।
সূত্র জানায়, ৩ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর পাঠানো চিঠিতে বাহারুল আলম লিখেছেন, তিনি ব্যবহৃত কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণ করে সাধারণ পাসপোর্ট গ্রহণ করতে ইচ্ছুক এবং সে জন্য প্রয়োজনীয় এনওসি প্রদানের অনুরোধ জানিয়েছেন।
এদিকে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণ করে সাধারণ পাসপোর্ট নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্টদের জন্য বিধিনিষেধ শিথিল করেছে। তবে সাবেক সরকারের আমলে জারি করা বিধিনিষেধ কূটনৈতিক পাসপোর্টের ক্ষেত্রে বহাল রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ প্রেক্ষাপটে আইজিপির আবেদনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
রক্তাক্ত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর পুলিশ বাহিনীর নেতৃত্বে পরিবর্তন এনে ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত আইজিপি বাহারুল আলমকে চুক্তিভিত্তিক আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেয়। তাঁর বর্তমান মেয়াদ চলতি বছরের ২০ নভেম্বর পর্যন্ত। মেয়াদ শেষে নতুন সরকার তা বাতিল না করলে আরও আট মাস দায়িত্বে থাকার সুযোগ রয়েছে।
পুলিশের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নির্বাচন শেষে আইজিপি দ্রুত দেশ ছাড়তে পারেন—এমন আশঙ্কাও আলোচনায় রয়েছে। কারণ, নির্বাচনের আগেই একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল তাঁকে অপসারণের দাবি তোলে। যদিও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্তে নির্বাচন পর্যন্ত তাঁর চুক্তির মেয়াদ বহাল থাকে।
আইজিপির পাসপোর্ট সমর্পণের বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি হোয়াটসঅ্যাপে পালটা প্রশ্ন করেন, ‘কি প্রশ্ন উঠেছে।’ পরে তাঁকে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট করে জানতে চাওয়া হলেও আর কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। - সূত্র: যুগান্তর