ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘মানবতার নিকৃষ্টতম অপরাধী’ আখ্যা দিয়ে তাকে অপহরণ করে আদালতে সোপর্দ করার আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ। তিনি এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি তুরস্কের প্রতিও আহ্বান জানান।
বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল জিও নিউজে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ এসব কথা বলেন। দ্য জেরুজালেম পোস্ট পত্রিকাও তার বক্তব্যের খবর প্রকাশ করেছে।
সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ বলেন, আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত ইতোমধ্যে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। সে কারণে যুক্তরাষ্ট্র চাইলে তাকে অপহরণ করে আদালতে তুলে দিতে পারে। তিনি আরও বলেন, তুরস্কও একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে এবং পাকিস্তানের জনগণ এ জন্য দোয়া করছে।
সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনী আটক করে নিউ ইয়র্কে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে আসিফ বলেন, নেতানিয়াহুকেও একইভাবে ধরে নিয়ে যাওয়া হলে তিনি সেটিকে সমর্থন করবেন।
নেতানিয়াহুকে আটক করার যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বারবার আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কথা উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আইসিসি যখন কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়, তখন দেশগুলোর দায়িত্ব ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
২০২৪ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
নেতানিয়াহুকে মানবতার সবচেয়ে বড় অপরাধী উল্লেখ করে খাজা আসিফ বলেন, গত চার থেকে পাঁচ হাজার বছরে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে ইসরায়েল যা করেছে, তেমনটি আর কোনো সম্প্রদায়ের সঙ্গে করা হয়নি। তিনি বলেন, বিশ্ব এর চেয়ে বড় অপরাধী আর দেখেনি। নেতানিয়াহুর মতো একজন ব্যক্তিকে যারা সমর্থন করছে, তাদের বিরুদ্ধেও শাস্তির বিধান থাকা উচিত—আইন কী বলে, সে প্রশ্নও তিনি তোলেন।
তবে এসব বক্তব্যের পরপরই সংবাদ উপস্থাপক বিরতির ঘোষণা দেন এবং জানান, বিরতির পর খাজা আসিফ আর অনুষ্ঠানে থাকবেন না।
এদিকে ২০২৪ সাল থেকে তুরস্ক ও ইসরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছে। তুরস্ক ইতোমধ্যে ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করেছে এবং দেশটির আকাশপথ ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
খাজা আসিফের এই আহ্বান এমন এক সময়ে এলো, যখন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতানিয়াহুর কঠোর সমালোচনা করে আসছেন।
এর আগে গত ৩ জানুয়ারি মার্কিন সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে নিউ ইয়র্কে নিয়ে যায়। ওই ঘটনার পর থেকেই বিশ্ব রাজনীতিতে এ ধরনের আটকের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।