একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধই বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ভিত্তি এবং মুক্তিযুদ্ধকে বাদ দিলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব থাকে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, নব্বই ও চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেই সামনে এগোতে হবে।
সোমবার সকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বাম দলগুলোর জোট গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ।
বজলুর রশীদ ফিরোজ জানান, তারেক রহমান ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর থেকেই বলে আসছেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধই বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ভিত্তি। মুক্তিযুদ্ধ ছাড়া দেশের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।
বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক অবস্থা, আসন্ন সংসদ নির্বাচন এবং উগ্র ও সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থানসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তাঁর সন্তান হিসেবে তারেক রহমান এবং শোকাহত পরিবার ও দলের প্রতি সমবেদনা জানাতেই তারা বৈঠকে অংশ নেন। দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরে মাতৃবিয়োগের শোকের মুখোমুখি হওয়ায় এই দুঃসময়ে সহমর্মিতা ও সমবেদনা জানানোই ছিল বৈঠকের প্রধান উদ্দেশ্য।
আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও আসন্ন নির্বাচন নিয়েও কথা হয়েছে। বিশেষভাবে দেশে মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান নিয়ে উদ্বেগের বিষয়গুলো আলোচনায় উঠে আসে।
মহান মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে তারেক রহমানের অবস্থান তুলে ধরে বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান এবং চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা, সেগুলো ধারণ করেই ভবিষ্যৎ পথচলা নির্ধারণ করতে হবে বলে তিনি মত দিয়েছেন।
বৈঠকে তারেক রহমান বলেন, দেশে সব মত ও বিশ্বাসের মানুষের সহাবস্থান থাকবে। এ প্রসঙ্গে বজলুর রশীদ জানান, বিশ্বাসী, অবিশ্বাসী ও সংশয়বাদী—সবাইকে নিয়েই একটি উদার, গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা বলেছেন তারেক রহমান। মানুষের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে পরিকল্পনার পাশাপাশি বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, দেশে বিরোধী দল ও মতপার্থক্য থাকবে, যা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ। তবে জনগণের প্রশ্নে ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পারস্পরিক মতবিনিময়ের মাধ্যমে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তারেক রহমান।
বৈঠকে যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকেও রাজনৈতিক সহনশীলতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার কথা বলা হয়। বজলুর রশীদ ফিরোজ জানান, রাজনৈতিক সহনশীলতা, পরমতসহিষ্ণুতা ও দার্শনিক সহনশীলতাভিত্তিক একটি সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তারা তুলে ধরেছেন, যা গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত। একই সঙ্গে একটি সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও আলোচনায় এসেছে।
এ ছাড়া একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি যেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়েও তারা জোরালো অবস্থান ব্যক্ত করেন।