এর আগে ২০১৭ সালে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইসরায়েল সফর করে ইতিহাস গড়েছিলেন মোদি। মোদির শাসনামলে গত এক দশকে দুই দেশের সম্পর্ক দ্রুত গভীর ও আস্থায় পরিণত হয়েছে। মোদির এবারের এই সফরে দুই দেশের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্য রয়েছে। দেশ দুইটির মধ্যে এবার বেশ কয়েকটি বড় চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
ইসরায়েল সফরের প্রথমদিন দেশটির সংসদ নেসেটে ভাষণ দিয়েছেন মোদি। সে সময় মোদিকে করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানান পার্লামেন্টে উপস্থিত স্পিকার, বিরোধীনেতা ও আইনজীবীরা। সেই সঙ্গে তারা ভারতের সঙ্গে জোরালো সম্পর্কের কথা বার বার ব্যক্ত করেন তারা।
ওই অঞ্চলে ইসরায়লের কড়া সমালোচক তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। একইসাথে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেছে সৌদি আরব ও পাকিস্তান। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের গভীর সম্পর্ক অঞ্চলটিতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

এ ছাড়া নেতানিয়াহু একটি নতুন আঞ্চলিক জোট—সম্ভাব্য ‘হেক্সাগন’ উদ্যোগ গঠনের কথা বলেছেন। সেখানে অংশগ্রহণকারী দেশ হিসেবে ইসরায়েল, ভারত, গ্রিস ও সাইপ্রাসের নাম এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্র এবং জাতিসংঘের সাবেক পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত মাসুদ খান মোদির এই সফরকে একটি নির্ণায়ক মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
রিয়াদভিত্তিক কিং ফয়সাল সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজের সহযোগী ফেলো উমর করিম বলেন, 'এটা স্পষ্ট যে ভারত ইসরায়েলের সঙ্গে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্বে প্রবেশ করেছে।'
মাসুদ খান বলেন, 'সৌদির সঙ্গে পাকিস্তানের কৌশলগত চুক্তি, সেইসঙ্গে তুরস্কের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক সরাসরি ইসরায়েলের হিসাব-নিকাশকে প্রভাবিত করে। আর এটি মোকাবিলা করার জন্য ইসরায়েল দিল্লির সঙ্গে তার প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও গোয়েন্দা তথ্য শেয়ার বৃদ্ধি করবে।'
মোদি যেহেতু ইসরায়েলে তাই তিনি নেতানিয়াহু এবং সেখানকার অন্যান্য নেতাদের পাকিস্তান সম্পর্কে প্রতিকূলভাবে চিন্তা করার বিষয়টি প্রয়োগের চেষ্টা করবেন বলেও মত দেন তিনি। মাসুদ খানের এই মূল্যায়নের সঙ্গে একমত কায়েদ-ই-আজম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ শোয়েব।
তিনি বলেন, 'ইসরায়েল-ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক পাকিস্তানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।'