মার্কিন-ইরান সংঘাতের আশঙ্কা: উত্তেজনা প্রশমনে উপসাগরীয় দেশগুলোর নীরব কূটনীতি

A
Admin
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৭:২৭
ইরানেজুড়ে চলমান বিক্ষোভ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হুমকিতে গভীর উদ্বেগে পড়েছে আরব উপসাগরীয় দেশগুলো। তাদের আশঙ্কা, তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে গোটা মধ্যপ্রাচ্য ভয়াবহ অস্থিতিশীলতার মুখে পড়তে পারে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে পর্দার আড়ালে জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো।

পর্যবেক্ষকদের মতে, সৌদি আরব গোপনে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে যেন ইরানে সরাসরি হামলা না চালানো হয়। একই সঙ্গে কাতার ও ওমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ভেঙে পড়া কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনঃস্থাপনে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছে। গত বুধবার ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে, এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পরই এসব দেশ উত্তেজনা প্রশমনে সক্রিয় হয়।

গালফ বিশ্লেষক আন্না জ্যাকবস খালাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান যোগাযোগ চ্যানেলগুলো অচল হয়ে পড়ায় উপসাগরীয় দেশগুলো উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। তাদের কাছে ওয়াশিংটনের প্রকৃত উদ্দেশ্য স্পষ্ট ছিল না, যা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।

দোহা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মুহান্নাদ সেলুমের ভাষ্য, গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছিল। এই অনিশ্চয়তাই তাদের সবচেয়ে বেশি আতঙ্কিত করেছে।

যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা
ইরানে চলমান সংঘাতে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। তেহরানের দাবি, এসব ঘটনায় শতাধিক নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে বিরোধী পক্ষের অভিযোগ, নিহত বিক্ষোভকারীর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প ইরানের জনগণকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দখলের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সহায়তা আসছে।” তিনি কী ধরনের পদক্ষেপের কথা বলছেন তা স্পষ্ট না করলেও, এই বক্তব্য পুরো অঞ্চলজুড়ে সম্ভাব্য যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।

আরব উপসাগরীয় দেশগুলোর ভয়, ইরানে হামলা হলে তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেবে, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং ইরান পাল্টা হামলা চালাতে পারে উপসাগরীয় ভূখণ্ডে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে।

২০১৯ সালে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথিদের হামলায় সৌদি আরবের তেল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার ঘটনা এখনো তাজা। পাশাপাশি, গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পর তেহরান কাতারের আল-উদেইদ মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হানে।

একজন ইরানি কর্মকর্তা জানান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কসহ আঞ্চলিক দেশগুলোকে আগেই সতর্ক করা হয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে এসব দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। এর পরপরই আল-উদেইদ ঘাঁটি থেকে কিছু মার্কিন কর্মী প্রত্যাহার করা হয়।

অপ্রত্যাশিত পরিণতির ভয়
বিশেষজ্ঞদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের নেতৃত্ব দুর্বল হতে দেখলেও হঠাৎ করে শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়লে তার পরিণতি কী হবে—এটাই তাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ। ২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন আগ্রাসনের পর দেশটির পতন, গৃহযুদ্ধ এবং আল-কায়েদা ও আইএসের উত্থানের অভিজ্ঞতা তারা আরেকটি বড় দেশে দেখতে চায় না।

খালাফের মতে, উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো বিশৃঙ্খলা নয়, বরং স্থিতিশীলতা চায়। তাদের আশঙ্কা, হঠাৎ শাসন পরিবর্তনের ফলে আরও উগ্র শক্তি ক্ষমতায় আসতে পারে।

কাতার, কুয়েত ও ওমান দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের সঙ্গে সহাবস্থানের নীতি অনুসরণ করছে। কাতার তো ইরানের সঙ্গে বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রও ভাগাভাগি করে। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ইরানের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বার। ফলে ইরানে বড় ধরনের অস্থিরতা হলে এসব দেশও সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়বে।

সৌদি আরব ও ইরানের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে বৈরী হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তা বাস্তববাদী রূপ নিয়েছে। সৌদি আরবের উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক সংস্কার ও পর্যটন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এখন তাদের অগ্রাধিকার।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল-জুবেইর বলেন, তাদের লক্ষ্য শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, যাতে জনগণের জন্য একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা যায়।

সৌদি বিশ্লেষক খালেদ বাতারফির মন্তব্য, ধীরে ও নিয়ন্ত্রিত পরিবর্তন গ্রহণযোগ্য হলেও হঠাৎ শাসন পরিবর্তন ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে পড়া কারও জন্যই মঙ্গলজনক নয়। তার ভাষায়, “গোটা অঞ্চল ইতিমধ্যেই আগুনে পুড়ছে, আমরা আরেকটি আগুন আমাদের দরজায় চাই না।”

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. একাদশে ভর্তি: প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ সদ্য. ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ মৃত্যু, হাসপাতালে ১,৭৫৩ সদ্য. অক্টোবরেই রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ: রুশ রাষ্ট্রদূত সদ্য. একনেকে আড়াই লাখ কোটি টাকার তিন মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদন সদ্য. হাসিনাকে ফেরত না দিয়ে ভারত চক্রান্ত করছে: রিজভী সদ্য. পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে জিয়াউর রহমানের লেখা সদ্য. আওয়ামী লীগের মিছিল: ওসির পর এবার গুলশান জোনের ডিসি প্রত্যাহার সদ্য. আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভারত-পাকিস্তান নৌবাহিনীর জাহাজের মাঝে সংঘর্ষ সদ্য. ৮ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর গোবিপ্রবি ভিসিকে উদ্ধার, পরদিন সহকারী প্রক্টরের পদত্যাগ সদ্য. হুথিদের ঠেকাতে যুক্তরাজ্যের সামরিক সহায়তা চাইল সৌদি সদ্য. একাদশে ভর্তি: প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ সদ্য. ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ মৃত্যু, হাসপাতালে ১,৭৫৩ সদ্য. অক্টোবরেই রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ: রুশ রাষ্ট্রদূত সদ্য. একনেকে আড়াই লাখ কোটি টাকার তিন মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদন সদ্য. হাসিনাকে ফেরত না দিয়ে ভারত চক্রান্ত করছে: রিজভী সদ্য. পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে জিয়াউর রহমানের লেখা সদ্য. আওয়ামী লীগের মিছিল: ওসির পর এবার গুলশান জোনের ডিসি প্রত্যাহার সদ্য. আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভারত-পাকিস্তান নৌবাহিনীর জাহাজের মাঝে সংঘর্ষ সদ্য. ৮ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর গোবিপ্রবি ভিসিকে উদ্ধার, পরদিন সহকারী প্রক্টরের পদত্যাগ সদ্য. হুথিদের ঠেকাতে যুক্তরাজ্যের সামরিক সহায়তা চাইল সৌদি