ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে রক্তক্ষয়ী সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। মানবাধিকার কর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে দেশটিতে প্রাণহানি বেড়ে ২০৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিক্ষোভকারীদের প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন ও হামলার প্রচ্ছন্ন হুমকির কড়া জবাব দিয়েছে তেহরান।
রোববার (১১ জানুয়ারি) ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের ওপর কোনো হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত সব মার্কিন ঘাঁটি ও জাহাজের পাশাপাশি ইসরায়েলও ইরানের ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত পার্লামেন্ট অধিবেশনে গালিবাফ বলেন, ইরানের ওপর হামলার ক্ষেত্রে দেশটি কেবল প্রতিক্রিয়া জানানোর অপেক্ষায় থাকবে না। হুমকির কোনো বস্তুনিষ্ঠ লক্ষণ দেখা দিলেই পাল্টা আঘাত করা হবে বলে তিনি জানান। তাঁর এই বক্তব্যের পর পার্লামেন্ট সদস্যরা ডাইসের সামনে জড়ো হয়ে ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ স্লোগান দেন।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ইরান এমন এক স্বাধীনতার পথে এগোচ্ছে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি, এবং যুক্তরাষ্ট্র সাহায্যের জন্য প্রস্তুত। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, ট্রাম্পকে ইরানের ওপর হামলার একাধিক সামরিক বিকল্প উপস্থাপন করা হয়েছে, যদিও এখনো তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএনএ জানিয়েছে, চলমান বিক্ষোভে এ পর্যন্ত ২০৩ জন নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৬২ জন বিক্ষোভকারী এবং ৪১ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। পাশাপাশি ৩ হাজার ২৮০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও ফোন যোগাযোগ বন্ধ থাকায় প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
এ অবস্থার মধ্যেও তেহরান, মাশহাদসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীরা রাজপথে অবস্থান করছেন। অনেক এলাকায় ইলন মাস্কের স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহার করে ভিডিও ফুটেজ বাইরে পাঠানো হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, উত্তর তেহরানে বিক্ষোভকারীরা মোবাইলের আলো জ্বেলে জড়ো হচ্ছেন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াচ্ছেন।
গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানের মুদ্রা রিয়ালের ভয়াবহ দরপতন ও তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। বর্তমানে এক ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের মান ১৪ লাখ ছাড়িয়েছে। অর্থনৈতিক দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন সরাসরি ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের দাবিতে রূপ নিয়েছে।