কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার খলিশাকোটাল সীমান্তে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) আবারও সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু করায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিজিবি ও বিএসএফের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে খলিশাকোটাল সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ কর্তৃক পাকা সড়ক নির্মাণের অভিযোগে দফায় দফায় পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে আপত্তি জানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সর্বশেষ গত শুক্রবার তৃতীয় দফায় কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠকে বিজিবির কড়া প্রতিবাদের মুখে বিএসএফ সড়ক নির্মাণ কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখে।
পরবর্তীতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও সীমান্তের বাংলাদেশ অংশে বিজিবি এবং ভারতের অংশে বিএসএফের টহল জোরদার করা হয়। তবে রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকালে বিএসএফ পুনরায় নতুন করে সড়কে মাটি ভরাটের কাজ শুরু করে।
রবিবার দুপুরে সীমান্ত এলাকায় গেলে স্থানীয়রা জানান, বিএসএফ তাদের পূর্বের প্রতিশ্রুতি রাখেনি। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত একাধিক যানবাহনে করে সড়কে মাটি ভরাট করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা আইয়ুব আলী, মজিবর রহমান ও নিফু মিয়া বলেন, কয়েক দিন ধরে পতাকা বৈঠকের পর কাজ বন্ধ থাকলেও রবিবার আবারও মাটি ভরাট শুরু হয়েছে। তারা জানান, দুই দেশের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠকের পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক মেইন পিলার নম্বর ৯৩৪-এর ১ নম্বর সাব পিলারের পাশে সোমবার পতাকা বৈঠকের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক এবং ভারতের ০৩ ব্যাটালিয়নের কমান্ডার অংশ নেবেন।
সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী শূন্যরেখা থেকে উভয় দেশের ১৫০ গজের মধ্যে কোনো ধরনের পাকা স্থাপনা নির্মাণ নিষিদ্ধ। অথচ বিএসএফ শূন্যরেখার ৭০ থেকে ১২০ গজের মধ্যে এই সড়ক নির্মাণ শুরু করায় আপত্তি তোলে বিজিবি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনগণও বিজিবির সঙ্গে অবস্থান নেয়।
লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম জানান, বিএসএফ দাবি করছে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারের জন্য সাময়িকভাবে মাটি ভরাট করা হয়েছে। তবে সোমবার ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠকে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হবে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।