ঝিনাইদহে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় সদর উপজেলার ভিটস্বর গ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
আহতদের মধ্যে আকরাম হোসেন, নজরুল ইসলাম, ফারুখ, ফজলুল হক, জাফর ও কাওসারকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের বাড়ি ভিটস্বর ও খড়াশুনি গ্রামে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী বিজয়ী হন। আজ সকালে সদর উপজেলার ভিটস্বর গ্রামে পরাজিত ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থক ও বিজয়ী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও মারধরে অন্তত ১০ জন আহত হন।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সামসুল আরেফিন বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষের মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং এলাকায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা হয়নি।
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ফারজানা ইয়াসমিন জানান, আহতদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও মারধরের চিহ্ন রয়েছে। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
আহত নজরুল ইসলাম বলেন, সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে খবর পান যে ধানের শীষের লোকজন তাঁদের বাড়িতে গেছে। বাড়িতে ফিরতেই তাঁকে ও তাঁর ভাইদের মারধর করা হয়। দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়াকেই তিনি তাঁদের ‘অপরাধ’ বলে উল্লেখ করেন এবং লাল মিয়া ও জিয়াসহ আরও কয়েকজন হামলায় জড়িত ছিল বলে অভিযোগ করেন, যাঁরা বিএনপি করেন।
নলডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাসানুর রহমান হাসুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রসুল বলেন, ইউনিয়নের কিছু মানুষ আগেও ঝামেলা করত। নির্বাচনে পরাজয়ের পর তারাই এসব হামলা ঘটাচ্ছে, যা তিনি চান না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জামায়াত তাঁদের ওপর কোনো হামলা করেনি, তাই তাদের মারধরের প্রশ্নই ওঠে না।
নলডাঙ্গা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি তাজুল ইসলাম বলেন, জামায়াতকে ভোট দেওয়াই হামলার শিকার ব্যক্তিদের ‘অপরাধ’। তাঁর অভিযোগ, ইউনিয়ন বিএনপির কয়েকজন ব্যক্তি এ ঘটনার পেছনে কাজ করছেন।
এদিকে সকালে কালীগঞ্জ শহরের থানা সড়কে ঝিনাইদহ-৪ আসনের পরাজিত স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। ভাঙচুর ও ব্যানার ছেঁড়া ছাড়াও হামলায় অন্তত তিনজন আহত হন। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন যুবক কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর চালান এবং ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের মারধর করেন। পরে তাঁরা কার্যালয়ের সামনে টানানো ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন। আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ বলেন, বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনা ঘটলেও প্রতিকার মিলছে না। তিনি অভিযোগ করেন, ওসি তাঁকে অফিস না খুলতে বললেও তাঁর অফিস ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখা স্বাভাবিক। জামায়াত বিজয়ী এবং তিনি দ্বিতীয় হয়েছেন—এটাই কি তাঁর অপরাধ, এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা পাচ্ছেন না এবং সরকারের কাছে কালীগঞ্জ থানার স্টাফ পরিবর্তনের দাবি জানাবেন।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জেল্লাল হোসেন বলেন, পরাজিত স্বতন্ত্র প্রার্থীর কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং এতে তিনজন আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।