কিশোরগঞ্জ–৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেছেন, স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামী তাকে ‘ফজু পাগলা’ উপাধি দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, যারা জামায়াতকে ভোট দেবেন, তারা তার মৃতদেহই দেখতে পাবেন।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বিকেলে ইটনা উপজেলার মৃগা ইউনিয়নে বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সম্মেলনে উপস্থিত ভোটারদের উদ্দেশে ফজলুর রহমান বলেন, তিনি নিজেই ‘ফজা পাগলা’ উপাধি নিয়ে এসেছেন। এই উপাধি যারা দিয়েছেন, তারা স্বাধীনতাবিরোধী ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী জামায়াত। তিনি প্রশ্ন করেন, “তাদেরকে যদি ভোট দেন, তাইলে আমার মৃতদেহ পাবেন। আপনারা তাদেরকে ভোট দেবেন? দিবেন?”
অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান আরও বলেন, আগের দিন তাকে তীব্রভাবে বকাঝকা করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কোনোভাবেই জামায়াত বা মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের নিয়ে উসকানিমূলক কিছু বলেননি। কিন্তু ৫ আগস্টের পর জামায়াত নেতারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা শুরু করায় তিনি প্রতিবাদ করতে বাধ্য হন। তাদের বক্তব্যে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধ নাকি ১৯৪৭ সালে শুরু হয়ে ২০২৪ সালে শেষ হয়েছে, আর ১৯৭১ সালে নাকি কেবল “একটি গণ্ডগোল” হয়েছিল, যা ভারতের সৃষ্টি।
তিনি বলেন, নিজের পরিচয় সাধারণ মানুষের ছেলে হলেও মুক্তিযুদ্ধে তিনি সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাই কেউ প্রতিবাদ না করায় তিনি জীবন-মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে প্রকাশ্যে বলেন, “রাজাকারের বাচ্চারা, এখনো জীবিত আছি রে। মুক্তিযুদ্ধ আছে, মুক্তিযুদ্ধ থাকবে।” তার দাবি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা হলে তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই হবে।
অনুষ্ঠানে তার সহধর্মিণী ও জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি উম্মে কুলসুম রেখা, সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম রতন, ইটনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস. এম. কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান স্বপন ঠাকুরসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।