জামায়াতের হিন্দু প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দীকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য ও ছবি ফাঁস

A
Admin
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৭:২৬
খুলনা-১ (দাকোপ–বটিয়াঘাটা) আসনে প্রথমবারের মতো জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী করা হয়েছে ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সভাপতি কৃষ্ণ নন্দীকে। এর আগে এ আসনে প্রার্থী ছিলেন মাওলানা আবু ইউসুফ। ৩ ডিসেম্বর খুলনায় অনুষ্ঠিত ৮ দলের বিভাগীয় সমাবেশে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান তাকে প্রার্থী ঘোষণা করেন।

ধর্মীয় পরিচয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের হলেও জামায়াতের প্রার্থী হওয়ায় কৃষ্ণ নন্দীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ভারতের হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের এক নেতার সঙ্গে তার তোলা ছবি, যা ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।

পেশায় ব্যবসায়ী কৃষ্ণ নন্দীর বাড়ি ডুমুরিয়ার চুকনগরে। সেখানেই তার পৈত্রিক নিবাস। স্থানীয় বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে তিনি পারিবারিক ব্যবসা—মোটরসাইকেল শোরুম, তেল, রড-সিমেন্ট ও টিনের ব্যবসায় যুক্ত হন। পারিবারিকভাবে তার বাবা মুসলিম লীগ নেতা খান এ সবুরের অনুসারী ছিলেন।

কৃষ্ণ নন্দীর দাবি, ২০০৩ সালে খুলনা-১ আসনের সাবেক জামায়াত এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ারের হাত ধরে তিনি জামায়াতে যোগ দেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক সহিংসতায় ক্ষুব্ধ জনতার হামলা ও অগ্নিসংযোগের আগ পর্যন্ত তাকে প্রকাশ্যে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় দেখা যায়নি। ওই ঘটনার পর তিনি পুনরায় সক্রিয় হন এবং উপজেলা হিন্দু কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পান। ৩১ অক্টোবর জামায়াতের হিন্দু সম্মেলনে তার নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক অংশ নেন।

বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব ওয়ার্ল্ড হিন্দু স্ট্রাগলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শিপন কুমার বসুর সঙ্গে কৃষ্ণ নন্দীর কয়েকটি ছবি গত কয়েকদিন ধরে ভাইরাল হয়েছে। সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের তার ফেসবুক পোস্টে ছবিগুলো শেয়ার করে দাবি করেছেন, ছবিগুলো ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির। তার ভাষ্য, এসব ছবিতে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ইনটেলিজেন্স ব্যুরোর (আইবি) এক কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন।

সায়েরের দাবি—ফরেনসিক বিশ্লেষণে ছবিতে কোনো এআই বা টেম্পারিংয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভ্রমণ নথি যাচাই করে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ে কৃষ্ণ নন্দী ভারতে অবস্থান করছিলেন। ২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত তিনি ২২ বার ভারতে গেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে কৃষ্ণ নন্দী বলেন, “ছবির ব্যক্তিকে আমি চিনি না। তার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। এআই জেনারেটেড ছবি ছড়িয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”

স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সাধারণ মানুষের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কৃষ্ণ নন্দী ছিলেন সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দের ঘনিষ্ঠজন। তার সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তোলা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে আছে। চুকনগরের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, ক্ষুব্ধ জনতা তাকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ মনে করে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে আগুন দেয়। তাদের মতে, নিজেকে রক্ষার জন্যই তিনি এখন জামায়াতের ঘাঁটিতে আশ্রয় নিয়েছেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে কৃষ্ণ নন্দী বলেন, “আমি ব্যবসায়ী হিসেবে মন্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক রেখেছি, ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি অতিরঞ্জিত করা হচ্ছে। ২০০৩ সাল থেকেই জামায়াতের রাজনীতিতে যুক্ত আছি।”

খুলনা-১ দেশব্যাপী অন্যতম হিন্দু অধ্যুষিত আসন। দাকোপে ৫৪.৪৪ শতাংশ এবং বটিয়াঘাটায় ২৭.৫৬ শতাংশ বাসিন্দা হিন্দু। পুরো আসনে মোট ভোটারের প্রায় ৪৩ শতাংশই হিন্দু; খ্রিষ্টান আছেন ২ শতাংশের বেশি।

স্বাধীনতার পর থেকে এ আসনে বেশিরভাগ সময় সংখ্যালঘু প্রার্থীরাই বিজয়ী হয়েছেন—১৯৭৩ সালে কুবের চন্দ্র বিশ্বাস, পরেরবার প্রফুল্ল কুমার শীল, পরে পঞ্চানন বিশ্বাস ও ননী গোপাল মণ্ডল বারবার নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালেও ননী গোপাল মণ্ডল জয়ী হন। দীর্ঘমেয়াদে এটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

জামায়াত ১৯৯৬ সালের পর পাঁচটি নির্বাচনে প্রার্থী দেয়নি। প্রায় তিন দশক পর এবার প্রথমে মাওলানা আবু ইউসুফকে মনোনয়ন দিয়ে পরে পরিবর্তন করে কৃষ্ণ নন্দীকে প্রার্থী করায় নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

মনোনয়ন হারালেও আবু ইউসুফ জানিয়েছেন, “দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কৃষ্ণ নন্দীই প্রার্থী, আমি তার প্রচারণা করছি।”

এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আছেন আমীর এজাজ খান, যিনি আগের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছেন। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াত—তিন দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভোটারদের আগ্রহ বেড়েছে।

তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে—ধর্মীয় পরিচয়, অতীত বিতর্ক, ভাইরাল ছবি ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ঘাটতি সত্ত্বেও কৃষ্ণ নন্দী কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে থাকতে পারবেন।

কৃষ্ণ নন্দী অবশ্য আত্মবিশ্বাসী। তার ভাষায়, “এই আসনে আমার ব্যাপক আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজন আছে। হিন্দু-মুসলিম সবাইকে নিয়ে আমি নির্বাচন করছি। এলাকার মানুষ আমাকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করেছে।”
সূত্র: যুগান্তর

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতির আশা টোকিওর সদ্য. ‘এই সংসদের মূল্য দুই আনাও নেই, ৫ বছর টিকবে কি না সন্দেহ’: নাহিদ ইসলাম সদ্য. সাঈদীর মামলার বাদী মুক্তিযোদ্ধা মানিকের মৃতদেহ দাফনে বাধা, গোপনে গার্ড অব অনার সদ্য. নোট অব ডিসেন্টে সংশোধন চাইলে বৈঠকে আসতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সদ্য. মক্কাসহ সৌদি আরবের চার শহরে জরুরি সতর্কতা জারি সদ্য. স্ত্রীকে বাঁচাতে ৫ লাখ টাকার সংগ্রাম, বাবার পাশে রাজপথে ১১ বছরের সন্তান সদ্য. জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শফিকুর রহমান আর নেই সদ্য. ‘সবার আগে তোর লাশ পড়ে থাকবে’ হুমকির পর কুরিয়ার ভ্যানে হামলা সদ্য. গাজীপুরে পোশাক কারখানার গোডাউনে আগুন সদ্য. জামায়াতের নায়েবে আমিরের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাকড সদ্য. প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতির আশা টোকিওর সদ্য. ‘এই সংসদের মূল্য দুই আনাও নেই, ৫ বছর টিকবে কি না সন্দেহ’: নাহিদ ইসলাম সদ্য. সাঈদীর মামলার বাদী মুক্তিযোদ্ধা মানিকের মৃতদেহ দাফনে বাধা, গোপনে গার্ড অব অনার সদ্য. নোট অব ডিসেন্টে সংশোধন চাইলে বৈঠকে আসতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সদ্য. মক্কাসহ সৌদি আরবের চার শহরে জরুরি সতর্কতা জারি সদ্য. স্ত্রীকে বাঁচাতে ৫ লাখ টাকার সংগ্রাম, বাবার পাশে রাজপথে ১১ বছরের সন্তান সদ্য. জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শফিকুর রহমান আর নেই সদ্য. ‘সবার আগে তোর লাশ পড়ে থাকবে’ হুমকির পর কুরিয়ার ভ্যানে হামলা সদ্য. গাজীপুরে পোশাক কারখানার গোডাউনে আগুন সদ্য. জামায়াতের নায়েবে আমিরের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাকড