নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানাধীন উত্তর ইসদাইর এলাকায় সংঘটিত একটি সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনায় গুরুতর জখম হওয়ার অভিযোগে আটজনের বিরুদ্ধে হত্যা প্রচেষ্টাসহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আব্দুর রহিম নামের এক ব্যক্তি।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুলাই রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উত্তর ইসদাইরের এক গ্যারেজের সামনে পরিকল্পিতভাবে হামলার ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রাস্তায় অবরোধ সৃষ্টি করে এবং হত্যার উদ্দেশ্যে মোঃ আব্দুর রহিমের ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পাঠায়।
মামলাটি ফতুল্লা থানায় দায়ের করা হয় ১ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে। বিলম্বের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এজাহার প্রস্তুত এবং সম্পূর্ণ তথ্য উপস্থাপনে সময় লেগেছে। বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ১৪১, ১৪৮, ৩২৩, ৩২৫, ৩৪১, ৩০৭, ৫০৬ ও ১১৪ ধারা অনুযায়ী মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে।
আসামিদের মধ্যে আছেন, সেলিম ওরফে মেকাপ সেলিম, বারিন, রাকিব, এমদাদুল ইসলাম, আল-আমিন, ইমরান, পাঠান এবং উজ্জ্বল প্রত্যেক অভিযুক্তের বয়স ৩২ থেকে ৩৬ বছরের মধ্যে। তারা সবাই উত্তর ইসদাইর এলাকার বাসিন্দা।
এজাহারে অভিযোগকারীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই হামলা পূর্বপরিকল্পিত এবং হত্যার উদ্দেশ্যে সংঘটিত। হামলাকারীরা একত্রিত হয়ে জনপথ অবরোধ করে ভয়ভীতি ছড়ায় এবং প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। ঘটনার সময় স্থানীয় লোকজন ভয়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শরিফুল ইসলাম জানান, “ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে আমরা দ্রুত তদন্ত শুরু করেছি। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। কারো বিরুদ্ধে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না।”
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মোঃ শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, “সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি নেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তদের কয়েকজন এর আগেও নানা অপরাধে জড়িত ছিল। এলাকাবাসীর দাবি, তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছে।