ব্লু স্প্যারো ক্ষেপণাস্ত্র
ইসরায়েলের তৈরি ‘ব্লু স্প্যারো’ একটি এয়ার-লঞ্চড ব্যালিস্টিক মিসাইল। যুদ্ধ বিশ্লেষকদের কাছে এটি অনেক সময় ‘মহাকাশ থেকে নেমে আসা ক্ষেপণাস্ত্র’ হিসেবেও পরিচিত। কারণ উৎক্ষেপণের পর এটি বায়ুমণ্ডলের একেবারে উপরের স্তরে, প্রায় মহাকাশের কাছাকাছি পর্যন্ত উঠে যায় এবং সেখান থেকে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে প্রায় উলম্বভাবে লক্ষ্যবস্তুর দিকে আঘাত হানে।
এর অস্বাভাবিক গতিপথের কারণে প্রচলিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনেক সময় এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত বা প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে লক্ষ্য করে চালানো এক অভিযানে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের দাবি উঠেছে।
লুকাস ড্রোন
যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ‘লুকাস’ একটি ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন বা আত্মঘাতী ড্রোন। এর নকশা অনেকটাই ইরানের বহুল ব্যবহৃত শাহেদ–১৩৬ ড্রোনের মতো। মার্কিন গবেষকেরা ইরানের ড্রোন প্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং করে এই ড্রোন তৈরি করেছে বলে জানা গেছে।
এই ড্রোনের বড় সুবিধা হলো এর কম খরচ। প্রতিটি লুকাস ড্রোন তৈরিতে প্রায় ৩৫ হাজার ডলার ব্যয় হয়, যা একটি টমাহক ক্রুজ মিসাইলের তুলনায় অনেক কম। সাধারণত এই ড্রোনগুলো ঝাঁকবদ্ধভাবে আক্রমণ চালায়, ফলে শত্রুপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিভ্রান্ত বা অকার্যকর হয়ে পড়ে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে এই ড্রোন ব্যবহার করছে বলে জানা গেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের কেউ কেউ একে ‘যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্রতিশোধ’ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন।
পিআরএসএম ক্ষেপণাস্ত্র
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রজন্মের দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হলো পিআরএসএম (প্রেসিশন স্ট্রাইক মিসাইল)। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলাকালে প্রথমবারের মতো এটি যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় বলে জানা গেছে।
এই ক্ষেপণাস্ত্র হাইমার্স (হাই মোবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেম) লঞ্চার থেকে নিক্ষেপ করা যায়। এটি পুরনো অ্যাটাকমস মিসাইলের তুলনায় বেশি শক্তিশালী এবং ৫০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম।
পিআরএসএমের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো এর আকার তুলনামূলক ছোট। ফলে একটি হাইমার্স লঞ্চারে আগের তুলনায় দ্বিগুণ সংখ্যক মিসাইল বহন করা সম্ভব।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব নতুন অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দ্রুত অকার্যকর করার কৌশল পরীক্ষা করছে।