মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) এক প্রতিবেদনে জানায়, বিক্ষোভ দমনে সরকারের কঠোর অবস্থানের ফলে হতাহত ও গ্রেপ্তারের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।
এইচআরএএনএ জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় আজনা, মারভদাশত ও কোরভেহ শহরে অন্তত ৭ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৬৪ জন। আহতদের অধিকাংশই পেলেট গান ও প্লাস্টিক বুলেটের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত।
অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ঘনিষ্ঠ বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ দাবি করেছে, বিক্ষোভ চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ২৫০ জন পুলিশ সদস্য এবং স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী বাসিজের ৪৫ জন সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছু এলাকায় সরাসরি গুলি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। তা সত্ত্বেও দেশটির অন্তত ৮৮টি শহরের ২৫৭টির বেশি স্থানে বিক্ষোভ ও শ্রমিক ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে।
ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে এখন পর্যন্ত ২১ জনকে স্বাধীনভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অংশগ্রহণে বিক্ষোভ চলছে। বোজনুর্দ, কাজভিন, ইস্পাহান ও তেহরানসহ বিভিন্ন শহর থেকে শত শত শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ইন্টারনেট সংযোগে ব্যাপক বিঘ্ন এবং কঠোর নিরাপত্তা বিধিনিষেধের কারণে প্রকৃত হতাহত ও গ্রেপ্তারের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। স্বাধীন তথ্যসূত্রের সীমিত প্রবেশাধিকারের কারণে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো।