নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানে কীভাবে সামরিক অভিযান চালানো যেতে পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে বিস্তারিত ব্রিফ করেছেন। যদিও এখনো হামলার ব্যাপারে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, তবে বিষয়টি তিনি ‘সিরিয়াসলি’ ভাবছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ইরানের কোন কোন স্থাপনায় এবং কীভাবে হামলা চালানো যেতে পারে, এ নিয়ে একাধিক পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। এসব পরিকল্পনার মধ্যে বেসামরিক স্থাপনায় হামলার সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এর আগে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছিল, ট্রাম্প নির্দেশ দিলে ইরানের সেনাবাহিনীর অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক আকারে বিমান হামলা চালানো হতে পারে।
এদিকে ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তাবাহিনী কঠোর অবস্থান নিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাতে বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করার পর শুক্রবার ও শনিবারও হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানায়।
এদিকে, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে নির্বিচার গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। বিবিসিকে দেওয়া তথ্যে তিনটি হাসপাতালের কর্মীরা জানান, নিহত ও আহত মানুষের চাপে হাসপাতালগুলো উপচে পড়ছে।
তেহরানের একটি হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানান, অনেক ক্ষেত্রে তরুণদের মাথা লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি করা হয়েছে। এমনকি কারও কারও হৃদপিণ্ডেও গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে।
একটি চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসক বলেন, 'বিপুল সংখ্যক আহত রোগী আসায় হাসপাতালকে ‘ক্রাইসিস মুডে’ নিতে হয়েছে। সীমিত সক্ষমতার মধ্যে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।'
বিক্ষোভকারীদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও সহিংসতায় নিহত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত তাদের নিহতের সংখ্যা ১৪ বলে জানা গেছে।