ইরান যুদ্ধে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কূল-কিনারা পাচ্ছেন না ট্রাম্প, খুঁজছেন বের হওয়ার পথ

A
Admin
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৭:৩০
ইরান যুদ্ধের তিন সপ্তাহ পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন এক সঙ্কটে পড়েছেন, যা ধীরে ধীরে তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে, মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক দুর্বল হয়েছে এবং যুদ্ধকে ‘সাময়িক অভিযান’ বললেও এখন ইরানের বিরুদ্ধে আরও সৈন্য মোতায়েনের প্রস্তুতি চলছে।

সমালোচনার মুখে ট্রাম্প আত্মপক্ষ সমর্থন করে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোকে ‘কাপুরুষ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিতে সহায়তা না করায় ন্যাটোর পাশে না দাঁড়ানোর কথাও জানিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, সামরিক অভিযান পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে। তবে শুক্রবার তিনি যে ‘সামরিক বিজয় অর্জনের’ কথা বলেন, তা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বাস্তবে ইরান পারস্য উপসাগরে তেল ও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে এবং একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ সামরিক হস্তক্ষেপ থেকে দূরে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা ট্রাম্প এখন এই যুদ্ধের ফলাফল বা এর প্রচার—কোনোটিই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। সুস্পষ্ট প্রস্থান পরিকল্পনার অভাবে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং দলের অবস্থান ঝুঁকিতে পড়েছে। বিশেষ করে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট প্রশাসনের সাবেক মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক আলোচক অ্যারন ডেভিড মিলার বলেন, ট্রাম্প নিজেই ‘ইরান যুদ্ধ’ নামে একটি জটিল পরিস্থিতি তৈরি করেছেন, যেখান থেকে বের হওয়ার পথ তিনি খুঁজে পাচ্ছেন না।

অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এই মূল্যায়ন প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছেন, ইরানের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, দেশটির নৌবাহিনীর বড় অংশ ধ্বংস করা হয়েছে এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে—যা নজিরবিহীন সাফল্য।

গত এক সপ্তাহে কূটনৈতিক, সামরিক ও রাজনৈতিক সবক্ষেত্রেই ট্রাম্প প্রশাসনের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। হরমুজ প্রণালিতে নৌবাহিনী মোতায়েনে ন্যাটো ও অন্যান্য মিত্রদের অনীহা তাকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হোয়াইট হাউসের কিছু উপদেষ্টা দ্রুত একটি ‘সম্মানজনক প্রস্থান’ খুঁজে বের করার পরামর্শ দিলেও তা ট্রাম্পকে কতটা প্রভাবিত করবে, তা স্পষ্ট নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, মিত্রদের অনীহার পেছনে শুধু যুদ্ধের ঝুঁকি নয়, বরং সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্পের মিত্রদের সঙ্গে টানাপোড়েনও ভূমিকা রেখেছে। ইসরায়েলের সঙ্গেও মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলি হামলার বিষয়ে তিনি আগে জানতেন না, যদিও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করেই করা হয়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ঘিরে ট্রাম্প এখন দোটানায় রয়েছেন এবং তার সামনে স্পষ্ট কোনো কৌশল নেই। একদিকে তিনি সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করতে পারেন—যেমন খারগ দ্বীপে তেল স্থাপনা দখল বা ইরানের উপকূলে সৈন্য মোতায়েন। তবে এতে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক জড়িত থাকার ঝুঁকি বাড়বে, যা মার্কিন জনগণের মধ্যে অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে।

অন্যদিকে তিনি বিজয় ঘোষণা করে সরে আসার পথও বেছে নিতে পারেন। তবে এতে উপসাগরীয় মিত্ররা অনিশ্চয়তায় পড়বে এবং ইরান আঞ্চলিক প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা চালিয়ে যেতে পারে। ইরান অবশ্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে—এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত মেরিন ও নৌসেনা মোতায়েন করছে, যদিও স্থল অভিযান নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

যুদ্ধের প্রভাব ট্রাম্পের ‘মেইক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ আন্দোলনেও পড়তে শুরু করেছে। প্রভাবশালী মহল থেকে সমালোচনা বাড়ছে, যদিও তার সমর্থকরা এখনো পাশে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানির দাম আরও বাড়লে এবং সেনা মোতায়েন বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

রিপাবলিকান কৌশলবিদ ডেভ উইলসন বলেন, অর্থনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট হতে শুরু করলে সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলবে—কেন জ্বালানির দাম বাড়ছে এবং কেন তাদের দৈনন্দিন জীবন আন্তর্জাতিক সংঘাতের ওপর নির্ভর করছে।

মার্কিন প্রশাসনের দুটি সূত্র জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর এখন হোয়াইট হাউসে এই উপলব্ধি তৈরি হয়েছে যে, সংঘাতের পরিণতি নিয়ে আগে থেকেই আরও বিস্তারিত পরিকল্পনা করা প্রয়োজন ছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের অন্যতম বড় ভুল ছিল ইরানের প্রতিক্রিয়া সঠিকভাবে অনুমান করতে না পারা। নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং বিশ্ব তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে।

সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গণমাধ্যমের ওপর ট্রাম্পের ক্ষোভও বেড়েছে। নেতিবাচক খবর প্রকাশের কারণে তিনি গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে ‘দেশদ্রোহিতার’ অভিযোগ তুলছেন।

ওবামা প্রশাসনের সাবেক পররাষ্ট্রনীতি উপদেষ্টা ব্রেট ব্রুয়েনের মতে, ট্রাম্প এখন তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন। কেন যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে জড়িয়েছে এবং এর শেষ কোথায়—এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর তিনি দিতে পারছেন না। সূত্র: রয়টার্স

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ সদ্য. প্রধানমন্ত্রী-মন্ত্রীদের বাসভবনের দায়িত্বে আ.লীগ ও যুবলীগপন্থী কর্মকর্তারা সদ্য. সাইবার হামলার আশঙ্কা, সাময়িক বন্ধ এনআইডি সার্ভারের কার্যক্রম সদ্য. স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৪৬ সদ্য. হঠাৎ হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার নির্দেশ সদ্য. দুর্যোগ মোকাবিলা ও সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে একসঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সদ্য. ভোট গণনা যত বাড়ছে, ততই কমছে নেতানিয়াহুর ভোট! সদ্য. প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলায় নিহত ৫ সদ্য. রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার: জাতিসংঘের প্রতিবেদন সদ্য. ‘ক্রসফায়ারের’ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স, আইজিপির বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সদ্য. প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ সদ্য. প্রধানমন্ত্রী-মন্ত্রীদের বাসভবনের দায়িত্বে আ.লীগ ও যুবলীগপন্থী কর্মকর্তারা সদ্য. সাইবার হামলার আশঙ্কা, সাময়িক বন্ধ এনআইডি সার্ভারের কার্যক্রম সদ্য. স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৪৬ সদ্য. হঠাৎ হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার নির্দেশ সদ্য. দুর্যোগ মোকাবিলা ও সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে একসঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সদ্য. ভোট গণনা যত বাড়ছে, ততই কমছে নেতানিয়াহুর ভোট! সদ্য. প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলায় নিহত ৫ সদ্য. রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার: জাতিসংঘের প্রতিবেদন সদ্য. ‘ক্রসফায়ারের’ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স, আইজিপির বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী