তবে আগে দেশের পাইকারদের পাশাপাশি বিদেশি পাইকারদের আনা গোনাও ছিলো চোখে পরার মতো। কিন্তু চলতি বছরে সিরাজগঞ্জের কাপড়ের হাটে দেখা নেই বিদেশি পাইকারদের। যে কারণে চাহিদা মতো তাঁতের তৈরি কাপড় বিক্রি করতে পারছেন না তাঁত মালিকরা। যদিও তারা ক্রেতাদের চাহিদার বিবেচনা করে শাড়ি, লুঙ্গি ও থ্রি-পিচে এনেছে নতুন ডিজাইন।
তাঁতিরা বলছেন, দেশে ট্রানজিট সুবিধা না থাকায় বিদেশি পাইকাররা আসতে পারছে না। যে কারণে দেশের তৈরি তাঁতের কাপড় বিদেশে রপ্তানি করতে পারছেন না। তাই এবার ঈদে বড়ো ধরনের লোকসান আসতে পারে বলে দাবি তাঁত মালিকদের। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দেশীয় তাঁতশিল্পকে বাঁচাতে ট্রানজিটের নামে আগ্রাসনকে রুখতে না পারলে দেশীয় এ শিল্প ধ্বংসের মুখে পড়বে।
বেলকুচি তামাই গ্রামের তাঁত মালিক মোহাম্মাদ আলী বলেন, রোজার ঈদকে সামনে রেখে প্রতি বছরের মতো এবারো প্রচুর পরিমাণ শাড়ি ও লুঙ্গি তৈরি করেছি। বিভিন্ন হাটে সেগুলো বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছি। ক্রেতা ও পাইকারদের আনো গোনা খুবই কম দেখতে পাচ্ছি। বিগত বছরে দেশের বাইরে থেকে ব্যবসায়ীরা এসে পাইকারিভাবে শাড়ি লুঙ্গি কিনে নিয়ে যেতো, এ বছর তেমন সাড়া পাচ্ছি না।
উপজেলার চালা গ্রামের তাঁত মালিক ও ব্যবসায়ী উসমান আলী বলেন, সারা বছর ব্যাবসা তেমন ভালো যায় না। প্রতিবছর রোজার ঈদে প্রচুর বেচাকেনা হয়ে থাকে কিন্তু এ বছর কাপড় বেচাকেনার চাহিদা কম কারণ পাইকার কম। বিদেশি পাইকার ব্যবসায়ী হাটে আসছে না।
বেলকুচি সোহাগপুর হাটের পুরোনো কাপড় ব্যবসায়ী আলী আকবার, প্রতিবছর রোজার এক সপ্তাহের মধ্যেই তৈরিকৃত তাঁতের সব কাপড় বিক্রি হয়ে যায়, কিন্তু এ বছর ব্যাবসা তেমন ভালো যাচ্ছে না। এ বছর হাটে দেশীয় পাইকার থাকলে বিদেশি পাইকার নাই বললেই চলে। তাই কাপড় কেনাবেচাও কম হচ্ছে। ট্রানজিট সুবিধা না থাকার কারণে বাইরের পাইকাররা আসতে পারছে না।
সোহাগপুর হাটে কাপড় কিনতে আসা পাইকার ব্যবসায়ী আতাউর রহমান বলেন, কোনো ঝামেলা ছাড়াই চাহিদা মতো কাপড় কিনেছি। এর আগে হাঁটে দেশি বিদেশি পাইকারদের ব্যাপক আনাগোনা ছিল, কিন্তু এ বছর তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না। তাই হাটে আসা দেশি পাইকাররা কাপড় কিনতে পেরে অনেক খুশি।
বেলকুচি উপজেলার সোহাগপুর হাটের ইজারাদার হেলাল উদ্দিন বলেন, ইতোমধ্যে দেশের দূর দুরন্ত থেকে পাইকাররা আসতে শুরু করেছে সোনাপুর কাপড় হাটে। ক্রেতাদের চাহিদা পূরণে তাঁতের তৈরি শাড়ি, লুঙ্গি ও থ্রি-পিচে আনা হয়েছে নতুন ডিজাইন। তবে বর্তমানে ট্রানজিট সুবিধা না থাকায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে পাইকারা আসলেও বিদেশি পাইকার না থাকায় তেমন একটা কেনা বেচা নেই। এ ব্যাপারে সরকারের কাছে সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তিনি।
সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, তাঁত কাপড়ের হাটে যেন কেউ হয়রানির যেন শিকার না হয় এজন্য নজরদারি থাকবে। এছাড়াও ঐতিহ্যবাহী এই তাঁত শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে, সেই সাথে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরো বেগবান ও সচল রাখতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ট্রানজিটের বিষয়ে নতুন সরকারের কাছে সুপারিশ করা হবে।
আর বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক আফরিন জাহান বলেন, হাটে কিছু অব্যবস্থাপনা আছে, এটা অনেক আগে থেকে চলে আসছে। আমরা চেষ্টা করছি সব অব্যবস্থাপনা কাটিয়ে উঠে ব্যবসায়ীদের জন্য সুন্দর একটি পরিবেশ তৈরি করতে পারবো। ট্রানজিটের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে সুপারিশ করা হবে।
সদ্য সংবাদ/শুভ সেখ