মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে হাতিয়া উপজেলার সুখচর ইউনিয়নের ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডসংলগ্ন জাগলার চর এলাকায় এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাগলার চরের জমি এখনো সরকারি ভাবে কাউকে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়নি। এই সুযোগকে কেন্দ্র করে গত ৫ আগস্টের পর জাহাজমারা ইউনিয়নের কোপা সামছু বাহিনী ওই চরের বেশ কিছু জমি বিক্রি করে। পরে সুখচর ইউনিয়নের আলাউদ্দিন বাহিনীও একই এলাকায় জমি দখল ও বিক্রির চেষ্টা শুরু করে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল এবং এর আগেও একাধিকবার উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার সকালে জাগলার চরের জমি দখলকে কেন্দ্র করে কোপা সামছু গ্রুপ ও আলাউদ্দিন গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থানে যায়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়।
এ সময় প্রতিপক্ষের ছোড়া গুলিতে আলাউদ্দিনসহ পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় আলাউদ্দিনকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর চারজন ঘটনাস্থলেই মারা যান।
ওসি মো. সাইফুল আলম জানান, দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় পুলিশ বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। একটি মরদেহ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং বাকি চারটি মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
তিনি আরও জানান, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।