রয়টার্স ও এএফপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়। হামলার সতর্কবার্তা পাওয়ার পর নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও, প্রায় ১৫ মিনিট পর পরিস্থিতি নিরাপদ ঘোষণা করে ফিরে আসার অনুমতি দেওয়া হয়।
হুথিদের মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি টেলিগ্রামে ঘোষণা করেছেন, ইরানের ওপর হামলা অব্যাহত থাকলে তাঁরা সরাসরি এই যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করবেন। হুথিরা কয়েকটি শর্তে সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে— যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে অন্য কোনো দেশের ইরানের বিরুদ্ধে যোগ দেওয়া, লোহিত সাগরে ইরানের ওপর প্রতিকূল কর্মকাণ্ড, বা ইরানের ওপর হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি। তিনি জানিয়েছেন, ‘তাদের আঙুল এখন ট্রিগারে’ রয়েছে।
হুথি বিদ্রোহীরা মূলত ইয়েমেনের শিয়া মুসলিম সংখ্যালঘু ‘জাইদি’ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি। তারা নিজেদের ইরান-নেতৃত্বাধীন ‘অক্ষশক্তি’ বা ‘অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স’-এর অংশ হিসেবে দাবি করে, যার মধ্যে হামাস ও লেবাননের হিজবুল্লাহ অন্তর্ভুক্ত। নব্বইয়ের দশকে আত্মপ্রকাশ করা এই গোষ্ঠীটি ‘আনসার আল্লাহ’ নামেও পরিচিত। বর্তমানে হুথিদের নেতৃত্বে রয়েছেন আব্দুল মালিক আল-হুথি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেন থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও জটিল ও বিপজ্জনক করে তুলেছে। এখন লোহিত সাগরের নিরাপত্তা ও পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি হুথিদের পদক্ষেপের জবাব দেয়, তবে সংঘাতের পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে, বিশেষ করে হুথিদের এই সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে কি না।
সূত্র: বিবিসি