দিনের বড় একটা সময় বাংলাদেশকে ভুগিয়েছে সালমান আলি আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের দৃঢ় জুটি। পঞ্চম উইকেট পতনের পর দুজন মিলে কড়া প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। তবে শেষ বিকেলে এসে সেই জুটিতে আঘাত হানেন তাইজুল ইসলাম। ৭১ রান করা সালমানকে বোল্ড করে গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রু এনে দেন এই বাঁহাতি স্পিনার। এরপর তাইজুলের পরের আঘাত হাসান আলি। মাত্র ৬ বল টিকে স্লিপে ক্যাচ দেন তিনি। শেষ সেশনে ৮ বলের ব্যবধানে দুই উইকেট তুলে স্বস্তি নিয়ে দিন শেষ করে বাংলাদেশ।
এর আগে দিনের শুরুতেই পাকিস্তানকে চাপে ফেলে দেন নাহিদ রানা। ইনিংসের ১১তম ওভারে অফ স্টাম্পের বাইরের শর্ট বলে আব্দুল্লাহ ফজলকে গালিতে ক্যাচ বানান তিনি। অভিষেক টেস্টের দুই ইনিংসে ফিফটি পাওয়া এই ওপেনার এবার থামেন মাত্র ৬ রানে।
এরপর মেহেদি হাসান মিরাজ ফেরান আজান আওয়াইসকে। ডিফেন্স করতে গিয়ে ভেতরে ঢোকা বলের লাইনে পরাস্ত হন এই ব্যাটার। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি, ২১ রান করে ফিরতে হয় তাকে।
৪১ রানে দুই ওপেনারকে হারানোর পর পাকিস্তানকে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন বাবর আজম ও শান মাসুদ। দুজন মিলে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়লেও সেই প্রতিরোধ ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। ৪৭ রান করা বাবরকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন তিনি।
সিরিজজুড়ে ছন্দহীন থাকা সউদ শাকিল এদিনও ব্যর্থ। নাহিদ রানার গতির সামনে টিকতে না পেরে ৬ রানেই বিদায় নেন তিনি। অন্যদিকে শান মাসুদ দারুণ ব্যাটিং করলেও সেঞ্চুরি পাওয়া হয়নি তার। ৭১ রান করে তাইজুল ইসলামের শিকার হন এই বাঁহাতি ব্যাটার। তখন ১৬২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে পাকিস্তান। সেখান থেকে রিজওয়ান ও সালমানের জুটি দলকে লড়াইয়ে ফেরানোর চেষ্টা করে।
চতুর্থ দিনের উইকেটে স্পিনারদের বাড়তি সুবিধা মিলেছে, আর সেটিই দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছেন তাইজুল ইসলাম। দ্বিতীয় ইনিংসে ১১৩ রান খরচায় নিয়েছেন ৪ উইকেট। এছাড়া নাহিদ রানা পেয়েছেন ২টি এবং মেহেদি হাসান মিরাজ নিয়েছেন ১ উইকেট।
এখন শেষ দিনের অপেক্ষা। বাংলাদেশের সামনে দেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো সিরিজ জয়ের সঙ্গে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার সুবর্ণ সুযোগ, আর পাকিস্তানের সামনে শুধুই বাঁচার লড়াই।