বুধবার (৩ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জুমার বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানায় সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সদস্য সচিব নাহিদুজ্জামান শিপন।
বিজ্ঞপ্তিতে তারা বলেন, 'বিতর্কিত ডাকসু নির্বাচন থেকে উঠে আসা প্রতিনিধি হিসেবে ফাতিমা তাসনিমের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য ডাকসু ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ণ করেছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃতি করা স্ট্যাটাসের মাধ্যমে তিনি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষাকে ভূলুণ্ঠিত করেছেন।
বিজয়ের মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাধারণত ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলো আলোকসজ্জা ও সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবকে স্মরণ করে। কিন্তু এবার তা দৃশ্যমান নয়। প্রশাসনের এই উদাসীনতা শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভ তৈরি করেছে বলেও দাবি করেছে সংগঠনটি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মচারীদের মুক্তিযুদ্ধের অবদানকে যথাযোগ্য মর্যাদায় তুলে ধরতে প্রশাসনের ভূমিকা আরও দৃশ্যমান হওয়া উচিত। একই সঙ্গে ফাতিমা তাসনিমের ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টা তারা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছে।
এর আগে, ফাতিমা তাসনিম জুমা তার ফেসবুক পোস্টে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা ও স্বৈরশাসনের প্রসঙ্গ তুলে লেখেন, 'বি'জয় ও জাতীয় আত্মপরিচয়ের সংগ্রাম দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী; ২০২৪ সালের আন্দোলন বাঙালির অসম্পূর্ণ রাষ্ট্র-আকাঙ্ক্ষা পূরণের আরেকটি সুযোগ এনে দিয়েছে।'
তার এই মন্তব্য নিয়েই বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ছাত্রদল নেতারা ফাতিমার বক্তব্যকে ধৃষ্টতাপূর্ণ বলে দাবি করে দ্রুত সংশোধন করার আহ্বান জানিয়েছে এবং বিজয়ের মাসজুড়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের আহ্বান জানিয়েছেন।