এই স্কোর অনুযায়ী ঢাকার বাতাসকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আগের দিন শুক্রবার একই সময়ে ঢাকার একিউআই স্কোর ছিল ১৯৭। অর্থাৎ মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দূষণের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
শীতকালীন শুষ্ক আবহাওয়া, বৃষ্টির অভাব এবং ধুলাবালির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ঢাকার বায়ুমান ধারাবাহিকভাবে খারাপের দিকে যাচ্ছে। ফলে বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় রাজধানী নিয়মিতভাবেই শীর্ষের দিকে অবস্থান করছে।
বৈশ্বিক দূষিত শহরের তালিকায় আজ প্রথম স্থানে রয়েছে মিশরের রাজধানী কায়রো। শহরটির একিউআই স্কোর রেকর্ড ৪৮৯, যা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ পর্যায়ের মধ্যে পড়ে। এ ধরনের দূষণ কায়রোর বাসিন্দাদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করেছে। তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি, যার স্কোর ২০০।
ভারতের আরও দুটি শহর কলকাতা ও মুম্বাই—যথাক্রমে ১৭২ ও ১৬৫ স্কোর নিয়ে অষ্টম ও দশম স্থানে রয়েছে। পাকিস্তানের লাহোর ১৮৩ স্কোর নিয়ে পঞ্চম এবং করাচি ১৭৯ স্কোর নিয়ে ষষ্ঠ অবস্থানে অবস্থান করছে। দক্ষিণ এশিয়ার এসব মেগাসিটির বাতাসের মান ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে থাকায় পুরো অঞ্চলজুড়েই বায়ুদূষণ একটি গুরুতর সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে।
এ ছাড়া মঙ্গোলিয়ার উলানবাটর ১৮৪ স্কোর নিয়ে চতুর্থ, নেপালের কাঠমান্ডু ১৭৩ স্কোর নিয়ে সপ্তম এবং মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন ১৬৯ স্কোর নিয়ে নবম অবস্থানে রয়েছে।
বায়ুমান সূচকের মানদণ্ড অনুযায়ী, একিউআই শূন্য থেকে ৫০ হলে তা ‘ভালো’ এবং ৫১ থেকে ১০০ হলে ‘মাঝারি’ হিসেবে ধরা হয়। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর এবং ২০১ থেকে ৩০০ হলে সেটিকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ঢাকার বাতাস এই ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে থাকায় শিশু, প্রবীণ ও শ্বাসকষ্টে ভোগা ব্যক্তিদের ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকেও অপ্রয়োজনীয় বাহিরের কার্যক্রম সীমিত রাখতে বলা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতের শেষ দিকে শুষ্ক আবহাওয়া, যত্রতত্র নির্মাণকাজ এবং শিল্পকারখানার ধোঁয়ার কারণে বাতাসে ক্ষতিকর বস্তুকণার পরিমাণ বেড়েছে। এর ফলে নগরবাসীর মধ্যে ফুসফুসের সংক্রমণ, শ্বাসকষ্ট ও অ্যালার্জিজনিত সমস্যা বাড়ছে।
তাঁদের মতে, দ্রুত রাস্তাঘাটে নিয়মিত পানি ছিটানো, নির্মাণকাজে ধুলা নিয়ন্ত্রণ এবং কলকারখানার ধোঁয়া নির্গমন কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ না করা হলে এই দূষণ পরিস্থিতি আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। বায়ুমান সূচক ৩০০ ছাড়িয়ে গেলে তা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা নগরবাসীর জন্য জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতার সংকেত দেয়।