শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে মেহেদি হাসান লেখেন, ‘ছুটি চাইছিলাম, পাইলাম না; আমার ছেলেটা মারা গেল!!! ধন্যবাদ বাংলাদেশ পুলিশ, আমি না থাকলে নির্বাচন আটকে যেতো!! কী জবাব দিবো বউকে??’
পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশে কর্মরত এই সদস্যের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহে। তার এই আবেগঘন পোস্ট মুহূর্তেই নেটিজেনদের নজরে আসে এবং ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।

সন্তান হারানোর পর দেওয়া অপর এক পোস্টে মেহেদি জানান, তার স্ত্রী তখনও সন্তানের মৃত্যুর খবর জানেন না। চিকিৎসকদের পরামর্শে বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছে। এমতাবস্থায় ডিউটিরত থাকা এবং সন্তানের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা নিয়ে তিনি চরম উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেন।
২০১৪ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেওয়া এই সদস্য তার পারিবারিক ও আর্থিক সংকটের কথা উল্লেখ করে বলেন, জীবিকার তাগিদে চাকরিটি তার জন্য খুব জরুরি। তবে সন্তানের মৃত্যুতে তিনি এতটাই ভেঙে পড়েছেন যে, বর্তমান কর্মস্থলে কাজ চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি সম্মানজনক কোনো বিকল্প কর্মসংস্থানেরও আকুতি জানান।
মেহেদি হাসানের এই ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি পুলিশের মাঠ পর্যায়ের সদস্যদের ছুটি ও মানবিক অধিকার নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। অনেকে মন্তব্য করেছেন, রাষ্ট্রের প্রয়োজনে দায়িত্ব পালন জরুরি হলেও বিশেষ মানবিক পরিস্থিতিতে নমনীয় হওয়া প্রয়োজন।