ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট চলাকালে চাঁদপুর সদর উপজেলার একটি ভোটকেন্দ্রে গোলযোগ, ব্যালট ছিনতাইয়ের চেষ্টা এবং ২০৩টি সিলমোহরকৃত ব্যালট পেপার উদ্ধারের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ৪০–৫০ জনের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মো. ফয়েজ আহম্মেদ, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), চাঁদপুর সদর মডেল থানা।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে চাঁদপুর–৩ সংসদীয় আসনের আওতাধীন দক্ষিণ গুনরাজদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ চলাকালে হঠাৎ গোলযোগ সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. নসরুল্লাহ পুলিশ ফোর্সসহ বিকেল সোয়া ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
ঘটনাস্থলে গিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট দেখতে পান, কেন্দ্রে দায়িত্বরত আনসার ও পুলিশ সদস্যরা কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে ধাওয়া করছেন এবং ভোটকেন্দ্রে চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে প্রায় ৪০–৫০ জন ব্যক্তি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে কেন্দ্রের ভেতর ও আশপাশে তল্লাশি চালিয়ে জানা যায়, দুর্বৃত্তরা জোরপূর্বক ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। কেন্দ্রের সামনে রাস্তায় পড়ে থাকা ২১টি ব্যালট পেপার উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি কেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে থেকে মোট ২০৩টি সিলমোহরকৃত ব্যালট পেপার উদ্ধার করা হয়, যা কেন্দ্র থেকে অপসারণ বা বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে উদ্ধারকৃত ব্যালট পেপার জব্দতালিকা মূলে জব্দ করা হয় এবং সংশ্লিষ্টদের স্বাক্ষর গ্রহণ করা হয়।
এ ঘটনায় আদালতের নির্দেশে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বেঞ্চ সহকারী মো. ইয়ামিন হোসাইন চাঁদপুর সদর মডেল থানায় এজাহার দায়ের করেন।
চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির ফখরুদ্দিন স্বপন জানান, এজাহারের ভিত্তিতে অজ্ঞাতনামা ৪০–৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে ওসি মো. ফয়েজ আহম্মেদ বলেন, “ঘটনার পর আমি নিজেও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফেরদৌস-কে দেওয়া হয়েছে।” সূত্র: আজকের পত্রিকা