মরক্কোর বিপক্ষে ড্রয়ের পর হাইতিকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য এখন ব্রাজিলের সামনে। আগামী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় ভোর চারটায় র্যাঙ্কিংয়ে ৪২ নম্বরে থাকা ইউরোপের এই দলের মুখোমুখি হবে সেলেসাওরা। তবে গ্রুপ শীর্ষে ওঠার এই মিশনে তাদের সামনে বড় চিন্তার কারণ হয়ে উঠতে পারেন এক ‘কার্ডপ্রিয়’ রেফারি।
গ্রুপ ‘সি’-তে বর্তমানে চার পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে ব্রাজিল। এই ম্যাচে জয় পেলে সেরা দুইয়ে থেকে পরবর্তী পর্ব নিশ্চিত করবে কার্লো আনচেলত্তির দল। তবে তারা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে নাকি রানার্সআপ—তা নির্ভর করবে মরক্কো ও হাইতির ম্যাচের ফলের ওপর।
ব্রাজিল সমর্থকদের উদ্বেগের একটি কারণ হলো মেক্সিকান রেফারি সিজার রামোসের অধীনে তাদের ফলাফল। তাঁর পরিচালনায় এখন পর্যন্ত ব্রাজিল দুটি ম্যাচ খেলেছে, যার একটিতেও জয় পায়নি তারা। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ১-১ ড্র এবং ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকায় কোস্টারিকার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র—দুটি ম্যাচই পরিচালনা করেছিলেন তিনি।
আন্তর্জাতিক ফুটবলের বাইরে ক্লাব বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও দায়িত্ব পালন করেছেন এই রেফারি। ২০১৭ সালের ক্লাব বিশ্বকাপ ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদ ও গ্রেমিওর ম্যাচ পরিচালনা করেন তিনি, যেখানে রিয়াল মাদ্রিদ জয় পায়।
চলতি বিশ্বকাপে এটি হবে রামোসের দ্বিতীয় ম্যাচ। এর আগে ইরান ও নিউজিল্যান্ডের ২-২ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচ পরিচালনা করেন তিনি, যেখানে বড় কোনো বিতর্ক হয়নি।
তবে পরিসংখ্যান বলছে, কার্ড প্রদানে বেশ কড়া অবস্থানে আছেন এই রেফারি। ২০২৫-২৬ মৌসুমে ২৬টি ম্যাচে তিনি ১২৭টি হলুদ কার্ড দেখিয়েছেন, অর্থাৎ গড়ে প্রতি ম্যাচে প্রায় ৪.৮৮টি কার্ড।
বিশ্বকাপ ইতিহাসেও গুরুত্বপূর্ণ এক অবস্থানে আছেন সিজার রামোস। এটি তার ক্যারিয়ারের অষ্টম বিশ্বকাপ ম্যাচ, যা তাকে মেক্সিকোর সর্বোচ্চ ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারিদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এর মাধ্যমে তিনি আরমান্দো আরচুন্দিয়ার রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ পরিচালনার রেকর্ডটি এখনও উজবেকিস্তানের রেফারি রাভশান ইরমাতভের দখলে। রামোস এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে চারটি গ্রুপ ম্যাচ, দুটি শেষ ষোলোর ম্যাচ এবং একটি সেমিফাইনালসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ পরিচালনা করেছেন।