বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দেশে ব্যবসা প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতার আড়ালে প্রতারণা, ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেওয়া ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে শাহরিয়ার রোমিও নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এসব অভিযোগ তুলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন প্রবাসী সাংবাদিক এবং করাপশন ইন মিডিয়ার ইডটির ইনচার্জ জাওয়াদ নির্ঝর।
ফরিদপুরে জন্ম নেওয়া শাহরিয়ার রোমিও বর্তমানে ঢাকার মিরপুরে বসবাস করেন। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে ব্যবসা স্থাপনে সহযোগিতার কথা বলে পরে তাদের ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ‘বিজি প্লাস’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। দাবি করা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি একটি বিদেশি বিমান সংস্থাকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও জিএসএ সেবা দেওয়ার পাশাপাশি ট্রাভেল এজেন্সি এবং আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে দাবি করা হয়, একজন চীনা বিনিয়োগকারীকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে সহযোগিতার পর ওই ব্যবসার নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ওই বিনিয়োগকারী ব্যবসা ফিরে পেতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সহায়তা চেয়েছেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ব্যবসাটির কার্যক্রম বর্তমানে একটি ভারতীয় চক্রের সহযোগিতায় পরিচালিত হচ্ছে এবং সেখানে বিদেশি জনবল ব্যবহারের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে দাবি করা হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন দূতাবাসে শাহরিয়ার রোমিওর ছবি ও তাকে নিয়ে অভিযোগসংক্রান্ত তথ্য পাঠানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা দূতাবাসের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায় অনিয়ম বা প্রতারণার অভিযোগ থাকলে তা শুধু ব্যবসায়িক বিষয় নয়, দেশের ভাবমূর্তি, অর্থনৈতিক স্বার্থ ও বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এছাড়া শাহরিয়ার রোমিওর বিরুদ্ধে ঢাকার বনানীতে একটি ট্রাভেল প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জনবল পাঠানোর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগও আনা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষেও কোনো স্বাধীন নথি বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শাহরিয়ার রোমিও ও তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন করাপশন ইন মিডিয়ার ইডটির ইনচার্জ জাওয়াদ নির্ঝর। একই সঙ্গে কোনো বিদেশি বিনিয়োগকারীর ব্যবসা প্রতারণার মাধ্যমে দখলের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রকৃত বিনিয়োগকারীর কাছে ফিরিয়ে দেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত না হলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাংলাদেশে বিনিয়োগ নিয়ে আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে।
সদ্য সংবাদ/এসএস