বুধবার (৮ এপ্রিল) লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক হামলায় তিন শতাধিক মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। যুদ্ধবিরতি চলমান থাকলেও এমন রক্তক্ষয়ী সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই সংকট নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীতে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে আলোচনার আয়োজন করা হবে।
বর্তমান এই সংঘাতের সূচনা ঘটে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে। যুদ্ধের শুরুতেই ইরানপন্থী লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ তেহরানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে।
এর পরপরই ইসরায়েল লেবাননের অভ্যন্তরে হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান ও স্থল হামলা জোরদার করে। যদিও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, ইসরায়েল দাবি করছে—লেবানন এই চুক্তির আওতার বাইরে। ফলে সেখানে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখা হচ্ছে।
কূটনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যখন উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা চালাচ্ছে, তখন ইসরায়েলের এই অবস্থান যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্বকে কতটা প্রভাবিত করবে। ইতোমধ্যে লেবাননে প্রাণহানির সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় হিজবুল্লাহ ও ইরান পাল্টা পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
সব মিলিয়ে, প্রস্তাবিত ওয়াশিংটন বৈঠকটি এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আলোচনায় কার্যকর কোনো সমাধান না এলে এই ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি আরও বড় আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: এএফপি