ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর জটিল কূটনৈতিক পরিস্থিতির মুখে পড়েছে মেক্সিকো। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর এই প্রথম এমন সংকট মোকাবিলা করছে দেশটি। একদিকে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে মেক্সিকো, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার চেষ্টা করছে—যাতে ভবিষ্যতে নিজেই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত না হয়।
শনিবার মার্কিন বিশেষ বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মেক্সিকোর ভেতরে সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি বলেন, মেক্সিকো মাদক কার্টেল দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে “কিছু একটা করতেই হবে”।
এই পরিস্থিতিতে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম স্পষ্ট অস্বস্তিতে পড়েছেন। সোমবার সকালের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রথমেই ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতি নিয়ে মেক্সিকোর অবস্থান ব্যাখ্যা করে একটি লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান।
শেইনবাউম বলেন, “আমরা অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপকে স্পষ্ট ও দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করি। লাতিন আমেরিকার ইতিহাস আমাদের বলে—হস্তক্ষেপ কখনো গণতন্ত্র আনে না, কল্যাণ সৃষ্টি করে না কিংবা দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতাও দেয় না।”
ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে ওয়াশিংটনের প্রতি শেইনবাউমের এই অবস্থান নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়েছে। মাদুরোর অপসারণের বিরুদ্ধে অঞ্চলজুড়ে সবচেয়ে শক্ত প্রতিবাদও এসেছে তার কাছ থেকেই।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানের নিন্দা জানিয়ে শেইনবাউম মূলত ইঙ্গিত দিয়েছেন—মেক্সিকোর ভেতরে মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে একই ধরনের একতরফা মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ তিনি মেনে নেবেন না। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচার, সন্ত্রাসবাদ ও অস্ত্রসংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগ এনেছে। সোমবার নিউইয়র্কের একটি আদালতে মাদুরো নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং যুদ্ধবন্দি হিসেবে ঘোষণা দেন।
তবে কূটনৈতিকভাবে প্রকাশ্য নিন্দার আড়ালেও ভেনেজুয়েলায় হামলার পর মেক্সিকো সিটি ওয়াশিংটনের আরও কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করতে পারে বলে ধারণা করছেন মেক্সিকান কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করা গেলে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আগ্রাসন ঠেকানো সম্ভব হতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেক্সিকোর এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, “যৌথ নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং কার্টেলবিরোধী লড়াই আরও শক্তিশালী করাই একতরফা মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ এড়ানোর মূল চাবিকাঠি।”
সূত্র: রয়টার্স।