প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশকে দেওয়া এই অনুদান সহায়তা আগের বছরের ৩৪ কোটি ৪৮ লাখ রুপি থেকে বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে ভারতবিরোধী মনোভাব লক্ষ্য করা গেলেও নতুন বাজেটে এই বরাদ্দ বৃদ্ধিকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের জন্য ১২০ কোটি রুপি বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে পরবর্তীতে সংশোধিত বাজেটে সেই অঙ্ক কমিয়ে আনা হয়।
একই বাজেটে ইরানের কৌশলগত চাবাহার বন্দরের জন্য অনুদান সম্পূর্ণভাবে বাতিল করেছে ভারত সরকার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই বন্দরের জন্য ৪০০ কোটি রুপি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল এবং ২০২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটেও একই পরিমাণ অর্থের প্রতিশ্রুতি ছিল। তবে নতুন অর্থবছরের বাজেটে সেই বরাদ্দ পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান নিষেধাজ্ঞার চাপ ও কূটনৈতিক সংবেদনশীলতাই এ সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০২৭ অর্থবছরে ভারতের অনুদান বৃদ্ধির তালিকায় রয়েছে তালেবান শাসিত আফগানিস্তানও। দেশটির জন্য অনুদান প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে ১৫০ কোটি রুপি নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগের সংশোধিত বাজেটে ছিল ১০০ কোটি রুপি।
ভারতের বিদেশি সহায়তা প্রাপকদের মধ্যে বরাবরের মতোই সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাচ্ছে ভুটান। দেশটির জন্য মোট ২ হাজার ২৮৮ কোটি রুপি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৭৬৯ কোটি রুপি অনুদান এবং ৫২০ কোটি রুপি ঋণ। গত অর্থবছরের তুলনায় ভুটানের জন্য বরাদ্দ ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যদিকে, নেপাল, মালদ্বীপ ও মরিশাসের জন্য সহায়তা কমানো হয়েছে। এর মধ্যে মরিশাসের বরাদ্দ সবচেয়ে বেশি কমে প্রায় ৩৩ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৫৫০ কোটি রুপিতে দাঁড়িয়েছে। মালদ্বীপের জন্য বরাদ্দ ১২ শতাংশ এবং নেপালের জন্য চার শতাংশ কমানো হয়েছে।
এ ছাড়া শ্রীলঙ্কার জন্য অনুদান ৩৩ শতাংশ বাড়িয়ে ৪০০ কোটি রুপি নির্ধারণ করা হয়েছে। সিচেলিসের জন্য বরাদ্দ ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ কোটি রুপি। পাশাপাশি আফ্রিকার দেশগুলোর জন্য ২২৫ কোটি রুপি, ইউরেশীয় অঞ্চলের জন্য ৩৮ কোটি রুপি এবং লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর জন্য ১২০ কোটি রুপি অনুদান বাড়ানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে নতুন অর্থবছরে বিদেশি সরকারগুলোকে অনুদান ও ঋণ হিসেবে মোট ৮ হাজার ৭৯২ কোটি রুপি দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ২৭ শতাংশ কম। এই সহায়তার বড় অংশই আসবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন বাজেট ভারতের বিদেশি সহায়তা নীতিতে কৌশলগত ও আর্থিক পুনর্গঠনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।