শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে জাতি গঠন ও বাংলাদেশ পুনর্গঠনের কাজে তা ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এই শক্তি কেবল নির্বাচনী স্বার্থে নয়, বরং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের জন্য কাজে লাগানো হবে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেলে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের রামপুর মিছবাহুল মাদ্রাসায় বিএনপি আয়োজিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় খতমে কোরআন ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই জাতিকে জানতে হবে যে গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। তিনি বলেন, এই জাতি কখনো করদ রাজ্য হওয়ার জন্য সৃষ্টি হয়নি।
তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছিলেন এবং লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। পরবর্তীতে যখন দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়ে, তখন সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তিনি আবারও তা রক্ষা করেন।
আওয়ামী লীগ বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছিল উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান সেই বাকশাল বিলুপ্ত করে বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চা শুরু করেন এবং জনগণের রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে দেন।
তিনি বলেন, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযুক্ত করা হয়েছিল এবং মহান আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাসকে রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম মূলনীতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনার সরকার সংবিধান থেকে এই বিষয়টি বাতিল করে দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে আজ আমাদের মাঝে না থাকলেও তিনি এ দেশের মানুষের হৃদয়ে চিরঞ্জীব হয়ে আছেন। তাঁর ইন্তেকালের পর দেশের আপামর জনগণসহ সারা বিশ্বের গণতন্ত্রকামী মানুষের হৃদয়ে তিনি স্থান করে নিয়েছেন এবং নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের দোয়া তিনি পেয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জানাজা তাঁর ভাগ্যে জুটেছে, যা তাঁর জনপ্রিয়তার প্রমাণ। সাধারণ মানুষ বিশ্বাস, আস্থা ও নৈতিকতার ভিত্তিতেই রাজনীতিবিদদের মূল্যায়ন করে বলে মন্তব্য করেন তিনি।