বিয়ের পিঁড়িতে হাসিমুখে বসেছিলেন রায়হান কবির। কিন্তু বাসর ঘরে ঢুকেই তাঁর দাবি, জীবনের সবচেয়ে বড় ধাক্কা খান তিনি। অভিযোগ, যাকে দেখে পছন্দ করে বিয়ে করেছিলেন, ঘোমটা খুলতেই দেখা যায় তিনি অন্য একজন। এই পাত্রী বদলের অভিযোগ ঘিরে গত কয়েক দিন ধরে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ ও রাণীশংকৈল এলাকায় তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়।
তবে সোমবার এ ঘটনায় নতুন মোড় নেয়। পাত্রী পক্ষের দায়ের করা মামলায় জামিন নামঞ্জুর হওয়ায় খোদ বর রায়হান কবিরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
ঘটনার শুরু জুলাইয়ের শেষ দিকে। পীরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর এলাকার বাসিন্দা রায়হান কবিরের জন্য পাত্রী খুঁজছিল তাঁর পরিবার। ঘটক মোতালেবের মাধ্যমে রাণীশংকৈলের জিয়ারুল হকের মেয়ে জেমিন আক্তারের সঙ্গে পরিচয় হয়। রায়হানের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, শিবদিঘী এলাকার একটি চায়ের দোকানে প্রথমবার পাত্রী দেখানো হয়। সেই তরুণীকে পছন্দ হওয়ায় বিয়ের প্রস্তুতি শুরু হয় এবং ১ আগস্ট ধুমধাম করে বিয়ে সম্পন্ন হয়। এরপর কনেকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন রায়হান।
কিন্তু বাসর রাতে পরিস্থিতি বদলে যায়। রায়হানের অভিযোগ, কনে মুখ ধোয়ার পর তিনি বুঝতে পারেন, যাকে তিনি আগে দেখেছিলেন এই তরুণী তিনি নন। তাঁর দাবি, মেকআপের আড়ালে অন্য একজনকে তাঁর সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়েছে।
রায়হানের মামা বাদল মিঞা অভিযোগ করেন, অতিরিক্ত মেকআপের কারণে বিয়ের সময় বিষয়টি ধরা পড়েনি। বাসর রাতেই সব পরিষ্কার হয়ে যায়। তাঁর ভাষায়, ঘটক ও কনের বাবা পরিকল্পিতভাবে বরপক্ষকে প্রতারণা করেছেন।
প্রতারণার অভিযোগ তুলে পরদিনই কনেকে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেয় বরপক্ষ।
অন্যদিকে কনের বাবা জিয়ারুল হক পুরো ঘটনাকে সাজানো নাটক বলে দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, ৭০ জন বরযাত্রীর সামনে বিয়ে হয়েছে, তখন কেউ চিনতে পারেনি—এটা অসম্ভব। তাঁর অভিযোগ, বিয়ের পর বরপক্ষ ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। তিনি জমি বিক্রি করে টাকা দেওয়ার জন্য সময় চাইলে তা না পেয়ে এখন তাঁর মেয়ের বিরুদ্ধে অপবাদ দেওয়া হচ্ছে।
ঘটক মোতালেবও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কোনো ভুল পাত্রী দেখাননি। তাঁর দাবি, বাড়িতেই পাত্রী দেখানো হয়েছিল এবং পরে দুই পক্ষ নিজেরাই সব সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই দ্বন্দ্ব শেষ পর্যন্ত আদালতে গড়ায়। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে মামলা করে। সোমবার ঠাকুরগাঁও আদালতে রায়হান কবিরের জামিন আবেদন করা হলে বিচারক তা নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ঠাকুরগাঁও আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন জানান, প্রতারণার অভিযোগে মামলাটি এখন বিচারাধীন রয়েছে। কোনো আপস বা রফাসূত্র না হওয়ায় আদালতের নির্দেশে বরকে জেলহাজতে যেতে হয়েছে। সত্য উদ্ঘাটনের দায়িত্ব এখন আদালতের ওপরই রয়েছে। সূত্র: যুগান্তর