আইসিজেতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়া: রোহিঙ্গা গণহত্যার পূর্ণাঙ্গ শুনানি শুরু

A
Admin
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৭:২৭
নেদারল্যান্ডসের হেগে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যার মামলার ঐতিহাসিক পূর্ণাঙ্গ শুনানি শুরু হয়েছে।

শুনানির প্রথম দিনে বাদী পক্ষ গাম্বিয়া অভিযোগ করেছে, সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের জীবন পরিকল্পিতভাবে বিভীষিকাময় করে তাদের জাতিগতভাবে নির্মূল করার চেষ্টা করেছে মিয়ানমার। এই মামলাটি গত এক দশকে প্রথম গণহত্যা সংক্রান্ত মামলা যা পূর্ণাঙ্গ শুনানির পর্যায়ে পৌঁছেছে।

গাম্বিয়ার আইন ও বিচারমন্ত্রী দাউদা জ্যালো আদালতে বলেন, 'রোহিঙ্গারা শুধু শান্তি ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন কাটানোর স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু মিয়ানমার তাদের সেই স্বপ্নকে ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত করেছে।'

২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর 'ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’এর কারণে অন্তত ৭ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। সেই সময় নির্বিচার হত্যা, গণধর্ষণ এবং গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনা জাতিসংঘের সত্যানুসন্ধানী দল ‘স্পষ্টত গণহত্যার উদ্দেশ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল।

২০১৯ সালে মুসলিম প্রধান ৫৭ দেশের জোট ওআইসির সমর্থনে গাম্বিয়া এই মামলাটি দায়ের করে। মিয়ানমারের তৎকালীন নেত্রী অং সান সু চি প্রাথমিক শুনানিতে এসব অভিযোগ ‘অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তবে ২০২২ সালে আইসিজে মিয়ানমারের আপত্তি খারিজ করে পূর্ণাঙ্গ শুনানির পথ সুগম করে।

২০২০ সালে আইসিজে একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং গণহত্যার প্রমাণ ধ্বংস না করতে নির্দেশ দেয়া হয়। বর্তমান শুনানিকে সেই অভিযোগ প্রমাণের চূড়ান্ত ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই শুনানি আগামী ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা ১৪ কার্যদিবস চলবে। প্রথমবারের মতো সরাসরি রোহিঙ্গা ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে। তবে তাদের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষার জন্য সাধারণ জনগণ ও সাংবাদিকদের উপস্থিতি সীমিত রাখা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আশা করছে, এই বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত হবে এবং নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ন্যায়বিচার পাবে।

সূত্র: রয়টার্স

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. স্কুল কমিটি নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে যুবক নিহত, আহত ২৮ সদ্য. তেজগাঁও কলেজ মসজিদে ‘গোপন বৈঠক’, জঙ্গি সন্দেহে আটক ২৩ সদ্য. রাজধানীর চার এলাকায় ৮ ককটেল বিস্ফোরণ সদ্য. কুড়িগ্রামের ফের সার নিয়ে উত্তেজনা, অবরুদ্ধ কৃষি কর্মকর্তা সদ্য. শেখ হাসিনা আমলের ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করবে বাংলাদশে, প্রতিক্রিয়ায় যা বলল ভারত সদ্য. ক্ষমা না চাইলেও একাত্তরের অবস্থান মেনে নিয়েছে জামায়াত: আইনমন্ত্রী সদ্য. দেশে হাম উপসর্গে মৃত্যু ৯৫০ ছুঁই ছুঁই সদ্য. অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে দুর্নীতি ও নোট বাণিজ্য বরদাশত হবে না: কাজল সদ্য. তারেক রহমানের হাতে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সুরক্ষিত নয়: নাহিদ সদ্য. নভেম্বরে দিল্লি সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: দ্য হিন্দু সদ্য. স্কুল কমিটি নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে যুবক নিহত, আহত ২৮ সদ্য. তেজগাঁও কলেজ মসজিদে ‘গোপন বৈঠক’, জঙ্গি সন্দেহে আটক ২৩ সদ্য. রাজধানীর চার এলাকায় ৮ ককটেল বিস্ফোরণ সদ্য. কুড়িগ্রামের ফের সার নিয়ে উত্তেজনা, অবরুদ্ধ কৃষি কর্মকর্তা সদ্য. শেখ হাসিনা আমলের ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করবে বাংলাদশে, প্রতিক্রিয়ায় যা বলল ভারত সদ্য. ক্ষমা না চাইলেও একাত্তরের অবস্থান মেনে নিয়েছে জামায়াত: আইনমন্ত্রী সদ্য. দেশে হাম উপসর্গে মৃত্যু ৯৫০ ছুঁই ছুঁই সদ্য. অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে দুর্নীতি ও নোট বাণিজ্য বরদাশত হবে না: কাজল সদ্য. তারেক রহমানের হাতে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সুরক্ষিত নয়: নাহিদ সদ্য. নভেম্বরে দিল্লি সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: দ্য হিন্দু