পঞ্চগড়-১ সংসদীয় আসনে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রার্থী মো. সারজিস আলম এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রার্থী মুহাম্মদ নওশাদ জমিরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা কাজী মো. সায়েমুজ্জামান স্বাক্ষরিত নোটিশ শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে জারি করা হয়।
নোটিশে এনসিপি প্রার্থী মো. সারজিস আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়, গত ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় জোটপ্রধানকে স্বাগত জানিয়ে তোরণ, ব্যানার ও বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে, যা সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা ২০২৫-এর বিধি ৭ (চ)-এর স্পষ্ট লঙ্ঘন। এতে আরও বলা হয়, রিটার্নিং কর্মকর্তার নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পঞ্চগড় চিনিকল মাঠে ১০ দলীয় জোটের জনসভায় তিনটি তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে, যা আচরণবিধিমালার বিধি ১৩ (ক)-এর পরিপন্থী। পাশাপাশি, রিটার্নিং অফিসারের কাছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক আইডি দাখিল না করেই নির্বাচনী প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যা বিধি ১৬ (ক)-এর লঙ্ঘন।
নোটিশের বিষয়ে জানতে ফোন করা হলে এনসিপি প্রার্থী মো. সারজিস আলম আজকের পত্রিকাকে বলেন, তিনি এখনো চিঠি পাননি এবং পেলে জবাব দেবেন।
একই ধরনের অভিযোগে বিএনপি প্রার্থী মুহাম্মদ নওশাদ জমিরকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত ২৩ জানুয়ারি বিকেল থেকে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের নির্দেশনায় পঞ্চগড় পৌর এলাকায় নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালনের লক্ষ্যে অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে প্রার্থীর পক্ষ থেকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের একাধিক ঘটনা ধরা পড়ে। অভিযান চলাকালে করতোয়া ব্রিজের দুই পাশে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছে স্থাপিত ফেস্টুন অপসারণের সময় প্রার্থীর কয়েকজন নেতা-কর্মী বাধা দেন এবং অসৌজন্য আচরণ করেন।
নোটিশে আরও বলা হয়, অনুমোদিত ১৮×২৪ ইঞ্চি আকার অমান্য করে প্রায় ৬×৩ ফুট আকারের ফেস্টুন স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ফেসবুক আইডি দাখিল না করেই নির্বাচনী প্রচারণা চালানো, দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা, দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া এবং গভীর রাতে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অবৈধ জমায়েতের অভিযোগও আনা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে বিএনপি প্রার্থী মুহাম্মদ নওশাদ জমিরকে ফোন করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উভয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধির ৭ (চ), ৭ (গ), ৭ (৩), ১৩, ১৫ (গ) ও ১৬ (ক) ধারাসহ একাধিক বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না দিলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামানকে ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।