দেশজুড়ে আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে গ্যাস সংকট। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় কমে গেছে গ্যাসের সরবরাহ। এতে একদিকে যেমন সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে যানবাহন চালকদের, অন্যদিকে বাসাবাড়িতেও কমে গেছে গ্যাসের চাপ। ফলে রান্না করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ।
বুধবার (১২ আগস্ট) চট্টগ্রাম ও রাজধানীর মালিবাগ, তেজগাঁও, বাড্ডা, খিলক্ষেত, উত্তরা ও মিরপুরসহ দেশের বেশ কয়েকটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন ঘুরে গ্যাস সংকটের চিত্র দেখা গেছে। কোথাও গ্যাস না থাকায় স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে, আবার কোথাও গ্যাসের আশায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। কোনো কোনো স্টেশনে ‘গ্যাস নেই’ লেখা সাইনবোর্ডও টানানো হয়েছে।
ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা জানান, সাধারণত রাত ১২টার পর কিছুটা গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যায়। তবে তখনও গ্যাসের চাপ থাকে অনেক কম। বুধবার দুপুর পর্যন্ত অনেক স্টেশনেই গ্যাসের সরবরাহ পাওয়া যায়নি। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক চালককে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।
চালকদের অভিযোগ, দিনের বড় একটি সময় গ্যাসের জন্য ফিলিং স্টেশনের লাইনে অপেক্ষা করেই কেটে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে গ্যাস পাওয়া গেলেও পরিমাণ কম থাকায় তা দিয়ে দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে তাদের আয়-রোজগারও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
শুধু পরিবহন খাতেই নয়, গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে বাসাবাড়িতেও। অনেক এলাকায় চুলা জ্বললেও গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে স্বাভাবিকভাবে রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
গত শুক্রবার ও শনিবার পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও সোমবার থেকে আবারও গ্যাসের সরবরাহ কমতে শুরু করে। প্রায় এক মাস ধরে চলা সংকট গত বৃহস্পতিবার কিছুটা কমলেও মঙ্গলবার থেকে এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় পরিস্থিতির আবারও অবনতি হয়েছে।
গ্যাস সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার কথা বলছেন পাম্প সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আমদানিকৃত জাহাজ থেকে টার্মিনালে এলএনজি খালাস করা যাচ্ছে না। এতে প্রতিদিন ২৫ কোটি ঘনফুটের বেশি এলএনজি সরবরাহ কমে গেছে। এর সঙ্গে একটি এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
তবে এলএনজি টার্মিনাল মেরামত ও সরবরাহ ঘাটতির পাশাপাশি গ্যাস সংকটের পেছনে অন্য কোনো কারণ বা চক্র রয়েছে কি না- এ নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই সংকটে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে ভোক্তা ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।
গ্যাস বিতরণ সংস্থাগুলো বলছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আগামী সপ্তাহ থেকে সরবরাহ বাড়তে পারে। তবে তার আগ পর্যন্ত রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্যাস সংকট আরও কতটা ভোগান্তি তৈরি করে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সদ্য সংবাদ/এসকে