শিরোপার লড়াই টিকিয়ে রাখতে সিটির সামনে জয়ের বিকল্প ছিল না। জয় পেলে পয়েন্ট ব্যবধান কমিয়ে শেষ রাউন্ড পর্যন্ত উত্তেজনা ধরে রাখতে পারত পেপ গার্দিওলার দল। কিন্তু নিজেদের মাঠে শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায় তারা। ম্যাচের ৩৯ মিনিটে বর্নমাউথের জুনিয়র ক্রুপির গোলে পিছিয়ে পড়ে ম্যান সিটি।
ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে গোল করে সমতা ফেরান আর্লিং হালান্ড। তবে জয় তুলে নেওয়ার মতো আরেকটি গোল আর পায়নি সিটি। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই লন্ডনের এমিরেটস স্টেডিয়ামের বাইরে আনন্দে ফেটে পড়েন আর্সেনাল সমর্থকেরা।
শিরোপা নিশ্চিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্যাপনের ছবি পোস্ট করেন মিডফিল্ডার ডেক্লান রাইস। সতীর্থদের সঙ্গে তোলা ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, “আমি আগেই বলেছিলাম... কাজ শেষ।”
এটি আর্সেনালের ইতিহাসে ১৪তম ইংলিশ লিগ শিরোপা। ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগে তাদের চেয়ে বেশি শিরোপা রয়েছে শুধু লিভারপুল ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের।
সবশেষ ২০০৩-০৪ মৌসুমে কিংবদন্তি কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গারের অধীনে অপরাজিত থেকে লিগ জিতেছিল আর্সেনাল। সেই দলটি ফুটবল বিশ্বে ‘ইনভিন্সিবলস’ নামে পরিচিত।
২০১৯ সালে কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া মিকেল আর্তেতার জন্যও এটি বিশেষ অর্জন। টানা তিন মৌসুম রানার্সআপ হওয়ার হতাশা কাটিয়ে অবশেষে দলকে শিরোপার স্বাদ এনে দিলেন তিনি। সাবেক প্রিমিয়ার লিগ ফুটবলার হিসেবে কোচের ভূমিকায় এটি তার প্রথম লিগ শিরোপা।
গত কয়েক মৌসুমে শিরোপার খুব কাছাকাছি গিয়েও ব্যর্থ হয়েছিল আর্সেনাল। ২০২৩ ও ২০২৪ মৌসুমে শেষদিকে এসে সিটির কাছে পিছিয়ে পড়ে তারা। তবে এবার আর ভুল করেনি আর্তেতার দল।
দৃঢ় রক্ষণভাগ, সংগঠিত ফুটবল ও সেট পিসে দুর্দান্ত নৈপুণ্যই ছিল আর্সেনালের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। ৩৭ ম্যাচে মাত্র ২৬ গোল হজম করেছে তারা, যা প্রিমিয়ার লিগে সর্বনিম্ন। এছাড়া ১৯টি ক্লিনশিটের পাশাপাশি সেট পিস থেকে এসেছে ২৪ গোল। এর মধ্যে কর্নার থেকেই হয়েছে ১৮টি গোল, যা প্রিমিয়ার লিগ ইতিহাসে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ।
লিগ জয়ের আনন্দের মাঝেই এখন ইউরোপ জয়ের স্বপ্নও দেখছে আর্সেনাল। আগামী ৩০ মে পিএসজির বিপক্ষে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে মাঠে নামবে তারা। সেই ম্যাচ জিততে পারলে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ইউরোপ সেরার মুকুটও উঠবে আর্সেনালের মাথায়।