সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শূন্য হওয়া গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে চলতি সপ্তাহেই নতুন নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।
প্রশাসনিক আদেশে যাদের নিজ নিজ দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে: মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাইফুল্লাহ পান্না এবং ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কামাল উদ্দিন। তাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া ৯ কর্মকর্তার নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। তারা হলেন: স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক সিদ্দিক জোবায়ের, আপিল বিভাগের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ ইউসুফ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ, পরিকল্পনা কমিশনের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোখলেসুর রহমান, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) এম এ আকমল হোসেন আজাদ, ড. কাইয়ুম আরা বেগম এবং বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক বেগম শরিফা খান।
সচিবালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, শূন্য হওয়া এসব পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে অতীতে পদোন্নতি ও পদায়নে বঞ্চিত এবং ক্ষতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে যারা যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক কারণে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাননি, তাদের মধ্য থেকেই নতুন সচিব নিয়োগের চিন্তা করছে সরকার। ধারণা করা হচ্ছে, বিএনপি ঘরানার বা নিরপেক্ষ হিসেবে পরিচিত দক্ষ কর্মকর্তাদের একটি অংশ এ দফায় শীর্ষ পদে আসতে পারেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব পদে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার এপিএস ও নবম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা মো. শামসুল আলমের নাম আলোচনায় রয়েছে।
সূত্র জানায়, দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে তিনি পদায়নবঞ্চিত ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাষ্ট্রপতির আদেশে পুনরায় চাকরিতে বহাল হন। এর আগে ২০২২ সালে তাকে সিনিয়র সচিব পদে পদোন্নতির অনুমোদন দেওয়া হলেও কার্যকর পদায়ন হয়নি।
গত জুলাইয়ে শিক্ষা সচিব সিদ্দিক জোবায়ের অপসারিত হলে তার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার আলোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত রেহানা পারভীনকে ওই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন নিয়োগের তালিকা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের সবুজ সংকেত মিললেই যেকোনো সময় প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।