মিনিয়াপোলিসে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) পরিচালিত এক অভিযানে গুলিতে নিহত হয়েছেন ৩৭ বছর বয়সী রেনি গুড। ঘটনাটি ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসন ও স্থানীয় নেতৃত্বের বক্তব্যে স্পষ্ট ভিন্নতা দেখা গেছে।
রেনি গুড তিন সন্তানের জননী, শৌখিন গিটারবাদক ও কবি ছিলেন। তিনি ওল্ড ডোমিনিয়ন ইউনিভার্সিটি থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ২০২০ সালে ‘একাডেমি অব আমেরিকান পোয়েটস’ থেকে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পুরস্কার পান। ইনস্টাগ্রামে নিজেকে তিনি পরিচয় দিতেন ‘কবি, লেখক, স্ত্রী ও মা’ হিসেবে। কলোরাডো স্প্রিংসের বাসিন্দা রেনি গত বছর কানসাস সিটি থেকে মিনিয়াপোলিসে চলে আসেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মিনেসোটা স্টার ট্রিবিউনের তথ্য অনুযায়ী, রেনি তাঁর দ্বিতীয় স্বামী টিম ম্যাকলিনের সঙ্গে একটি পডকাস্ট পরিচালনা করতেন। ম্যাকলিন ২০২৩ সালে মারা যান। তাঁদের এক ছেলে রয়েছে; প্রথম স্বামীর ঘরেও রেনির আরও দুই সন্তান আছে। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, রেনি কোনো রাজনৈতিক আন্দোলনকারী ছিলেন না; তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ খ্রিষ্টান ছিলেন এবং তরুণ বয়সে উত্তর আয়ারল্যান্ডে যুব মিশনে অংশ নিয়েছিলেন। অতীতে তিনি ডেন্টাল সহকারী ও একটি ক্রেডিট ইউনিয়নে কাজ করেছেন; সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সন্তানদের দেখভাল করছিলেন।
বার্তা সংস্থা এপি জানায়, বুধবার স্থানীয় সময় সকালে মিনিয়াপোলিসের পোর্টল্যান্ড অ্যাভিনিউয়ে আইসিই কর্মকর্তারা বড় ধরনের অভিযান চালান। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, রেনি গুড নিজের গাড়িতে বসে ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, তিনি সেখানে ‘লিগ্যাল অবজারভার’ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে।
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, এক আইসিই এজেন্ট রেনির গাড়ির দরজা খোলার চেষ্টা করলে তিনি গাড়ি ঘুরিয়ে সরিয়ে নিতে চান। এ সময় সামনে থাকা আরেক এজেন্ট খুব কাছ থেকে জানালা দিয়ে তিনবার গুলি চালান। রেনি মাথায় গুলিবিদ্ধ হন এবং পরে হাসপাতালে মারা যান।
তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম ভিন্ন বর্ণনা দিয়েছেন। প্রশাসনের দাবি, রেনি গুড ‘ডোমেস্টিক টেররিস্ট’ ও ‘পেশাদার বিক্ষোভকারী’ ছিলেন এবং গাড়িকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে এজেন্টদের ওপর হামলার চেষ্টা করেছিলেন। গুলিবর্ষণকে ‘আত্মরক্ষা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়।
এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন রেনির মা ডোনা গ্যাঙ্গার। বিবিসিকে তিনি বলেন, তাঁর মেয়ে কোনো রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না; পরিস্থিতির চাপে আতঙ্কিত হয়ে পড়তে পারেন। মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে বলেছেন, ভিডিও ফুটেজে আইসিই এজেন্টদের বেপরোয়া ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রমাণ রয়েছে। মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্যকে ‘প্রোপাগান্ডা’ বলে অভিহিত করেছেন।
রেনি গুডের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের সহায়তায় খোলা তহবিলে ১০ ঘণ্টার মধ্যে ৩ লাখ ৭০ হাজার ডলারের বেশি অনুদান জমা পড়েছে।