তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মজুত ইতিহাসের সেরা অবস্থানে রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে দীর্ঘ সময় যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা দেশটির আছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ইরান সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্র তাদের থাড ইন্টারসেপ্টরের প্রায় ২৫ শতাংশ ব্যবহার করে। বর্তমানে ইরান যেভাবে ড্রোন ও স্বল্পমূল্যের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে, তা মোকাবিলায় যে উচ্চমূল্যের ইন্টারসেপ্টর প্রয়োজন, তার উৎপাদন হার তুলনামূলক ধীর।
যুদ্ধের আর্থিক ব্যয় নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'সেন্টার ফর নিউ আমেরিকান সিকিউরিটি' এর তথ্যমতে, একটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ পরিচালনায় প্রতিদিন গড়ে ৬৫ লাখ ডলার ব্যয় হয়। অভিযানের প্রথম ২৪ ঘণ্টাতেই প্রায় ৭৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার খরচ হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।
অন্যদিকে, পেন হোয়ার্টন বাজেট মডেলের পরিচালক কেন্ট স্মেটার্সের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সংঘাত কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ব্যয় ২১০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। গত এক বছরে শুধু ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা ও মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন অভিযানে ওয়াশিংটন ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, জেডিএএম কিট এবং নৌবাহিনী থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য এসএম–৩ ইন্টারসেপ্টরের মজুতও কমে আসছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী এবং ইরানের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সামরিক অভিযানের কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পেন্টাগনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মূলত রাশিয়া বা চীনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি ও তীব্র সংঘাতের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল। কিন্তু ইরানের মতো দেশের দীর্ঘস্থায়ী ও স্বল্পব্যয়ের ড্রোন ও রকেট হামলার মোকাবিলায় এসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অর্থনৈতিকভাবে ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। এই ভারসাম্যহীনতা দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।