অসামান্য সাফল্যের নজির গড়েছেন ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার যমজ দুই বোন। ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষে মেডিকেল কলেজে ভর্তির চূড়ান্ত সুযোগ পেয়েছেন তারা। ফাবিহা জামান মিহা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে এবং লামিসা জামান লিহা নেত্রকোনা মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নের সুযোগ অর্জন করেছেন।
যমজ এই বোনরা নান্দাইল উপজেলার ভাটি সাভার গ্রামের বাসিন্দা ডা. এম. কামরুজ্জামান মানিক ও তসলিমা বেগম লাভলীর কন্যা। শিক্ষাজীবনের শুরু থেকে ধারাবাহিক সাফল্যের মধ্য দিয়ে এগিয়ে আসা মিহা ও লিহা ময়মনসিংহ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এবং ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ময়মনসিংহ থেকে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। উভয় পরীক্ষাতেই তারা মেধাবৃত্তি অর্জন করেছিলেন।
পরিবারের শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তাদের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বাবা ডা. এম. কামরুজ্জামান মানিক ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। মা তসলিমা বেগম লাভলী ময়মনসিংহ নাসিরাবাদ কলেজের রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান। বর্তমানে পরিবারটি ময়মনসিংহের বাউন্ডারি রোড এলাকায় বসবাস করছেন।
অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রমের ফলেই যমজ বোন একসঙ্গে মেডিকেলে ভর্তির সাফল্য এনে দিয়েছেন বলে জানান স্বজনরা। তাদের এই কৃতিত্বে পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।
ডা. এম. কামরুজ্জামান মানিক বলেন, এই অর্জন শুধু তাদের পরিবারের নয়, পুরো নান্দাইলবাসীর গর্ব। তাদের সাফল্য আশপাশের শিক্ষার্থীদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে তারা মানবিক চিকিৎসক হয়ে দেশ ও মানুষের সেবা করবে, আর এ পথে শিক্ষক মায়ের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
মা তসলিমা বেগম লাভলী বলেন, মেয়েদের পরিশ্রমের সার্থকতায় মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। তারা যেন সারাজীবন মানবিক গুণাবলি ধারণ করে চলতে পারে, এটাই আমার কামনা।
যমজ বোন মিহা ও লিহা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, আলহামদুলিল্লাহ। তারা মানবিক ডাক্তার হয়ে পরিবার, জন্মস্থান নান্দাইলসহ দেশ ও মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চান।