ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণে ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকের আগমনের তথ্য জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সোমবার কমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিভিন্ন দেশ থেকে আগত এই পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের মধ্যে বিবিসি, রয়টার্স, এপি ও আল জাজিরাসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও রয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট বিদেশি সাংবাদিকের সংখ্যা প্রায় ১৫০ জন। এর মধ্যে পাকিস্তানের বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান থেকে আসছেন ৪৮ জন সাংবাদিক এবং আল জাজিরা থেকে ভোটের খবর সংগ্রহে আসছেন সাতজন। তবে ভারত থেকে কতজন সাংবাদিক আসবেন, সে বিষয়ে কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
ইসি জানিয়েছে, তাদের আমন্ত্রণে বিভিন্ন দেশের নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৬০ জন প্রতিনিধি আসছেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংগঠন থেকে আসছেন প্রায় ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক। এছাড়া ৪৫টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্বে বিদেশি সাংবাদিকের সংখ্যা প্রায় ১৫০ জন।
আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে রয়েছেন ভুটান ও নাইজেরিয়ার প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মালয়েশিয়ার নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অব এশিয়ান পলিটিক্যাল পার্টিজের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান। এর বাইরে তুরস্ক থেকে ছয়জন সংসদ সদস্য ও সুপ্রিম ইলেকশন কাউন্সিলের কর্মকর্তাসহ ১০ সদস্যের একটি পর্যবেক্ষক দল আসছে। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও নাইজেরিয়া থেকে পাঁচজন করে প্রতিনিধি দল এবং ফিলিপাইন, জর্জিয়া, রাশিয়া, শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান, পাকিস্তান ও ইরানের নির্বাচন কমিশনের কমিশনার ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আসছেন।
গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের সংবাদ কভার করতে আসা বিদেশি সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন জাপানের সংবাদসংস্থা এনএইচকে, বিবিসি নিউজ, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, রয়টার্স, এবিসি অস্ট্রেলিয়া ও ডয়চে ভেলের প্রতিনিধিরা। পাশাপাশি স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরাও রয়েছেন।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংগঠন থেকে আসা প্রায় ৩৩০ জন পর্যবেক্ষকের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতৃত্বাধীন পর্যবেক্ষণ দলে রয়েছেন ২২৩ জন। এ ছাড়া কমনওয়েলথ থেকে ২৫ জন, এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস থেকে ২৮ জন, ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট থেকে ১২ জন এবং অন্যান্য সংস্থা থেকে প্রায় ৩০ জন পর্যবেক্ষক স্বপ্রণোদিতভাবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আসছেন।
ইসি বলছে, ইতোমধ্যে বিদেশি আমন্ত্রিত অতিথি, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের ভিসা-সংক্রান্ত সব ব্যবস্থা সম্পন্ন হয়েছে। বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকরা যাতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এর আগে সরকার বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ভিসা ফি মওকুফ করেছে।
এদিকে মঙ্গলবার থেকে পূর্ণমাত্রায় মাঠে নামছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ দল। ওই দিন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বেন বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন পর্যবেক্ষণ মিশন।
মিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য রাষ্ট্রের পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের মোট ২০০ জন পর্যবেক্ষকের অংশগ্রহণে মিশনটি পূর্ণ সক্ষমতা অর্জন করেছে। বর্তমানে সব স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক ঢাকায় প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন, যেখানে তারা নির্বাচনের দিনের ভোটগ্রহণ, ভোট গণনা ও ফলাফল সংকলন পর্যবেক্ষণের পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা পাচ্ছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ইউরোপ থেকে ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক এসেছেন এবং ইইউ কূটনৈতিক সম্প্রদায় ও অংশীদার দেশগুলো থেকে আরও ৩৫ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক যুক্ত হয়েছেন। গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ থেকে ১১ জন বিশ্লেষকের একটি মূল দল দেশে অবস্থান করছে এবং জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক ৬৪টি প্রশাসনিক জেলায় কাজ করছেন। নির্বাচনের দিন তারা বিভিন্ন শহর, নগর ও গ্রামে ভোটগ্রহণ, গণনা ও ফলাফল পর্যবেক্ষণ করবেন।
আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইইয়াবস ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মিশনের প্রাথমিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন।