ইরানে চলমান দেশব্যাপী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘পতনের মুখে’ আছেন বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ইরান ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড কিংবা বিদেশি শক্তির পক্ষে কাজ করা ‘ভাড়াটে দালালদের’ কোনোভাবেই সহ্য করবে না।
খামেনি বিক্ষোভকারীদের ‘ভাঙচুরকারী’ ও ‘নাশকতাকারী’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেন, তারা ট্রাম্পের ইশারায় কাজ করছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের হাত ‘হাজারো ইরানির রক্তে রঞ্জিত’ এবং ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগে ক্ষমতাচ্যুত শাহের মতোই একদিন ট্রাম্পকেও ক্ষমতা হারাতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, চাপের মুখে ইসলামি প্রজাতন্ত্র কখনোই পিছু হটবে না।
এই বক্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন ইরানে ইন্টারনেট ও টেলিফোন সেবা বন্ধ থাকার পরও বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের রাস্তায় নামতে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আগুন জ্বালিয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়ার দৃশ্য দেখা যায়।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রথমবারের মতো চলমান বিক্ষোভ নিয়ে মুখ খুলে দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘সন্ত্রাসী এজেন্টরা’ সহিংসতা উসকে দিচ্ছে। তারা হতাহতের ঘটনা স্বীকার করলেও বিস্তারিত তথ্য জানায়নি।
যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় বিক্ষোভের পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট নয়। তবে এই আন্দোলন শুরু হয় অর্থনৈতিক সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে, যা ধীরে ধীরে সরকারের জন্য সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্ট নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, চলমান বিক্ষোভে অন্তত ৪২ জন নিহত এবং ২ হাজার ২৭০ জনের বেশি মানুষ আটক হয়েছেন।
এদিকে, ইরানের নির্বাসিত শাহের পুত্র রেজা পাহলভি আরও বিক্ষোভের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘বিশ্বের চোখ আপনাদের দিকে—রাস্তায় নামুন।’ বিক্ষোভে শাহের পক্ষে স্লোগান শোনা যাচ্ছে বলেও খবর পাওয়া গেছে, যা একসময় মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতো।
অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে সতর্ক করে বলেছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে ইরানকে ‘ভয়াবহ মূল্য’ দিতে হবে। তিনি ইঙ্গিত দেন, পরিস্থিতি এতটাই সংকটাপন্ন যে খামেনি দেশ ছাড়ার কথাও ভাবতে পারেন।