জ্বালানি বিভাগ, পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের একাধিক কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, আইনজীবীদের মাধ্যমে পাওয়া রায়ের সংক্ষিপ্তসার থেকেই এই ক্ষতিপূরণের অঙ্ক জানা গেছে। তবে এখনো রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি হাতে পাওয়া যায়নি। পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর আইনজীবীদের মতামত নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এর আগে, টেংরাটিলায় গ্যাস পুড়িয়ে ফেলা ও পরিবেশগত ক্ষতির জন্য বাংলাদেশ সরকার ও বাপেক্স ইকসিডে মোট ১০১ কোটি ৪০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল। সে হিসাবে প্রাপ্ত ক্ষতিপূরণের অঙ্ক দাবির তুলনায় অনেক কম।
ক্ষতিপূরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, প্রাথমিকভাবে ক্ষতিপূরণের খবর জানা গেছে। বিস্তারিত রায় পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় অবস্থিত টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রটি ২০০৩ সালে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য নাইকোর কাছে হস্তান্তর করা হয়। খননকাজ শুরুর পর ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন সেখানে দুটি বড় বিস্ফোরণ ঘটে। এসব ঘটনায় গ্যাসক্ষেত্রের বিপুল পরিমাণ গ্যাস পুড়ে যায় এবং আশপাশের স্থাপনা ও সম্পদের মারাত্মক ক্ষতি হয়।
বিস্ফোরণের পর পেট্রোবাংলা নাইকোর কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করলেও কোম্পানিটি তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর ২০০৭ সালে পেট্রোবাংলা দেশের আদালতে মামলা করে। মামলাটি হাইকোর্ট হয়ে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায় এবং উভয় ক্ষেত্রেই পেট্রোবাংলার পক্ষে রায় আসে। একই সময়ে নাইকোর গ্যাস বিল পরিশোধ বন্ধ রাখা হয় এবং বাংলাদেশে থাকা তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।
২০২০ সালে তৎকালীন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানিয়েছিলেন, ২০১০ সালে নাইকো নিজেদের দায়মুক্তির দাবিতে ইকসিডে সালিসি মামলা করে। পরে বাংলাদেশ সরকার ও বাপেক্স আলাদাভাবে ক্ষতিপূরণের দাবি জানায়। সব মিলিয়ে মোট দাবির অঙ্ক দাঁড়ায় ১০১ কোটি ৪০ লাখ ডলার।
পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের কর্মকর্তারা জানান, ইকসিডে শুনানির সময় ক্ষতিপূরণের দাবিকে ঘিরে একাধিক প্রশ্ন উত্থাপিত হয়। অতীতে রায় নিয়ে আগাম তথ্য প্রকাশ করায় গোপনীয়তা ভঙ্গের অভিযোগ ওঠায় এবার পূর্ণাঙ্গ রায় না দেখে মন্তব্য করতে চান না তারা।
এদিকে ২০০৮ সালে দেশে ক্ষতিপূরণের অঙ্ক নির্ধারণের সময় তেল–গ্যাস–খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ–বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি প্রতিবাদ জানিয়েছিল। কমিটির সাবেক সদস্যসচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, শুরু থেকেই ক্ষতিপূরণের অঙ্ক নির্ধারণ ও মামলা পরিচালনায় দুর্বলতা ছিল। তবে নাইকোর দায় প্রমাণ হওয়াটা একটি নৈতিক বিজয়।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামও জানান, দাবির তুলনায় ক্ষতিপূরণের অঙ্ক হতাশাজনক। পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর তা পর্যালোচনা করা হবে এবং মামলা পরিচালনায় ব্যয়ের হিসাবও দেখা হবে।
পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রের একটি অংশে ক্ষতি হলেও অন্যান্য স্তর ও অংশে গ্যাস মজুত অক্ষত রয়েছে। সেখানে নতুন কূপ খননের জন্য উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব প্রস্তুত করা হয়েছে। ইকসিডের চূড়ান্ত রায় হাতে পাওয়ার পর আইনজীবীদের পরামর্শ নিয়ে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।