বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে নিজের ফেসবুক পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান লেখেন, ‘জনাব তারেক রহমান, সপরিবারে সুস্বাগতম!’ তার এই সংক্ষিপ্ত বার্তাটি দ্রুতই রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
এর আগে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজও তারেক রহমানকে স্বাগত জানান। তিনি দৈনিক যুগান্তরের একটি ফটোকার্ড শেয়ার করে লেখেন, ‘আবার স্বাগতম! বাংলাদেশ আপনার কাছ থেকে ব্যতিক্রমী নেতৃত্ব প্রত্যাশা করে।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অন্যতম নেতা সারজিস আলম তারেক রহমানের আগমনকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করে ফেসবুকে পৃথক স্ট্যাটাসে লেখেন, 'প্রায় দেড় যুগ পর, স্বৈরাচারের পতন ও পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তারেক রহমান দেশে ফিরছেন। ২৪-এর অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে তাকে স্বাগত।'
দেশের স্বার্থ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যাশা জানিয়ে সারজিস আলম বলেন, 'অতীত অভিজ্ঞতা ও বর্তমান বাস্তবতা সামনে রেখে গণতান্ত্রিক ও আধিপত্যবাদবিরোধী লড়াইসহ একটি কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।'
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৩৬ মিনিটে স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে তারেক রহমানকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা তাকে স্বাগত জানান।
ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া শেষে জুবাইদা রহমান ও জাইমা রহমান এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে রওনা হন। কিছুক্ষণ পর তারেক রহমান বিমানবন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্জ থেকে বেরিয়ে জুতা খুলে শিশির ভেজা ঘাসে পা রাখেন এবং একমুঠো মাটি হাতে তুলে নেন।
এরপর পূর্বনির্ধারিত বাসে করে তিনি রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় বিএনপি আয়োজিত গণসংবর্ধনাস্থলে রওনা হন। পথে তাকে একনজর দেখার জন্য সড়কের দুই পাশে ভিড় করেন অসংখ্য নেতাকর্মী ও সমর্থক। হাসিমুখে হাত নেড়ে সবার শুভেচ্ছার জবাব দেন তারেক রহমান।
তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে পূর্বাচলের ৩০০ ফিটে এলাকায় বিশাল গণসংবর্ধনার আয়োজন করেছে বিএনপি। কুড়িল মোড়সংলগ্ন সড়কের উত্তর পাশে দক্ষিণমুখী করে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে ৪৮ ফুট বাই ৩৬ ফুটের একটি মঞ্চ।