জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগের মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল, অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে আগামী ২২ অক্টোবরের মধ্যে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ অভিযোগ আমলে নিয়ে এ আদেশ দেন।
মামলায় মোট আটজনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে পলাতক পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। অপর তিনজন বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকায় তাদের বিষয়ে আলাদা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পলাতক পাঁচজন হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল, অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল, সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম জামাল উদ্দিন এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন।
এ মামলার অপর তিন আসামি হলেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শায়ান এবং সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত। তাদের মধ্যে শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, এ কে এম জামাল উদ্দিন ও তানভীর হাসান সৈকত বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও আন্দোলন দমনের ঘটনায় আটজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, এসব ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে উসকানি, ষড়যন্ত্র ও সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে।
রোববার ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মইনুল করিম। অভিযোগ আমলে নেওয়ার পর পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
মামলার পরবর্তী কার্যক্রম হিসেবে আগামী ২২ অক্টোবর আসামিদের হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিচার শেষে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই কার্যকর হবে।
সদ্য সংবাদ/এসকে