বাংলাদেশে নিযুক্ত নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ও তাঁর স্ত্রী ডিয়ান ডাও ঢাকায় পৌঁছেছেন। আজ সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকার মার্কিন দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
এক বিবৃতিতে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারা তাঁর জন্য গর্বের। এই অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি এগিয়ে নিতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, স্ত্রীসহ এমন একটি দেশে ফিরে আসতে পেরে তাঁরা আনন্দিত, যে দেশটির সঙ্গে তাঁদের বহু সুখস্মৃতি জড়িয়ে আছে।
কূটনীতিক হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে ক্রিস্টেনসেনের পরিচয় নতুন নয়। চার বছর আগে তিনি ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকবিষয়ক কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে তাঁকে বাংলাদেশে ‘অ্যাম্বাসেডর এক্সট্রাঅর্ডিনারি অ্যান্ড প্লেনিপটেনশিয়ারি’ হিসেবে মনোনয়ন দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরে গত মাসে মার্কিন সিনেটের অনুমোদন পান তিনি।
দুই দিন আগে রাষ্ট্রদূত হিসেবে তাঁর শপথ নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস। সে সময় দূতাবাসের ফেসবুক পোস্টে জানানো হয়, নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে শপথগ্রহণকারী ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে স্বাগত জানাতে পেরে তারা আনন্দিত। ওই পোস্টে ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁর গভীর পরিচয় রয়েছে এবং এই দেশে ফিরে আসতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। ঢাকায় আমেরিকান ও স্থানীয় কর্মীদের নিয়ে গঠিত একটি শক্তিশালী দলের নেতৃত্ব দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করতে তিনি উচ্ছ্বসিত বলেও উল্লেখ করেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ঢাকায় পিটার হাসের উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন। তিনি বাংলাদেশের ১৯তম মার্কিন রাষ্ট্রদূত। এর আগে ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকবিষয়ক কাউন্সেলর ছিলেন। পিটার হাস ২০২২ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ১৮তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০২৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর অবসর নেন। তাঁর অবর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন।
নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে ক্রিস্টেনসেন ২০২২ সালের আগস্ট থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডে পররাষ্ট্রনীতি উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন। সেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক কৌশলগত প্রতিরোধ মিশনের আন্তর্জাতিক প্রভাব নিয়ে পরামর্শ প্রদান করেন।
দুই দশকের বেশি সময়ের কূটনৈতিক জীবনে তিনি ওয়াশিংটন ও বিদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন রাজনৈতিক-সামরিক ব্যুরোর আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অস্ত্র হস্তান্তর দপ্তরের উপপরিচালক, উত্তর কোরিয়া নীতিবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধির বিশেষ সহকারী এবং যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটির এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলবিষয়ক উপকমিটিতে পিয়ারসন ফেলো হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা।
এ ছাড়া তিনি ম্যানিলা, সান সালভাদর, রিয়াদ ও হো চি মিন সিটির মার্কিন দূতাবাসগুলোতেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ন্যাশনাল ওয়ার কলেজের ‘ডিস্টিংগুইশড’ গ্র্যাজুয়েট ক্রিস্টেনসেন ২০২২ সালে ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজিতে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর আরও রয়েছে টেক্সাস এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটি থেকে পরিসংখ্যানে মাস্টার্স এবং রাইস ইউনিভার্সিটি থেকে অর্থনীতি ও ব্যবস্থাপনায় স্নাতক ডিগ্রি।
স্প্যানিশ, জার্মান ও ভিয়েতনামি ভাষায় সাবলীল এই কূটনীতিক ফরাসি, জাপানি ও পর্তুগিজ ভাষাও শিখেছেন। ২০০২ সালে ফরেন সার্ভিসে যোগ দেওয়ার আগে তিনি হিউস্টন ও নিউইয়র্কে ব্যবস্থাপনা পরামর্শক হিসেবে কাজ করতেন।