বিজেপি নেতাদের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুততম সময়ে সীমান্তে বেড়া নির্মাণ কাজ শেষ করা হবে। দলটির নির্বাচনী ইশতেহারেও এ প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনাই বিজেপির প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করবে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন ঠেকাতেও জোর দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে ‘শনাক্ত করো, নির্মূল করো এবং বিতাড়িত করো’ নীতির বাস্তবায়নের কথাও বলা হয়েছে।
বিজেপি নেতারা আরও জানিয়েছেন, বিএসএফ ও পুলিশের যৌথ অভিযান জোরদারের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাগুলোকেও স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হবে।
এক দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গ জয় করতে মরিয়া ছিল বিজেপি। অবশেষে সেই লক্ষ্য পূরণ হওয়ায় দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিমবঙ্গে ‘পদ্মফুল ফুটেছে’ বলে মন্তব্য করেন।
রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘ শাসনামলে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে নানা ইস্যুতে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের কার্যপরিধি ১৫ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ৫০ কিলোমিটার করার প্রস্তাব রাজ্য সরকার প্রত্যাখ্যান করে। এছাড়া নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) ও জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) ইস্যুতেও দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বিরোধ দেখা দেয়।
এদিকে, বিভিন্ন বিস্ফোরণ ঘটনার তদন্তসহ আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত একাধিক বিষয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে টানাপোড়েন ছিল দীর্ঘদিনের। নির্বাচনকালীন স্পর্শকাতর কেন্দ্রে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়েও দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছায়।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠিত হলে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের এ টানাপোড়েন অনেকটাই কমে আসবে এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় দ্রুত পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।