শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার বারোমারী সাধু লিওর খ্রিষ্টান ধর্মপল্লিতে আগামী ২৯ ও ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফাতেমা রাণী মা মারিয়ার ২৯তম বার্ষিক তীর্থোৎসব। এ উপলক্ষে তীর্থোৎসবের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা ইয়াসমিন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) তিনি তীর্থস্থানটি পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মালেক।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক তীর্থোৎসবের সার্বিক প্রস্তুতি, পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। উৎসবটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেন তিনি।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, ‘মানবতার জননী ফাতেমা রাণী মা মারিয়া’ মূলভাবকে সামনে রেখে এবার দুই দিনব্যাপী এ তীর্থোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুলসংখ্যক খ্রিষ্টধর্মাবলম্বী পুণ্যার্থীর সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।
ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকবে আলোক শোভাযাত্রা, প্রার্থনা, নিশিজাগরণ, জীবন্ত ক্রুশের পথ ও মহাখ্রিষ্টযাগ।
ঐতিহাসিক বারোমারী সাধু লিওর ধর্মপল্লি ১৯৪২ সালে প্রায় ৪২ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৮ সাল থেকে স্থানটি বার্ষিক তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। পর্তুগালের ফাতেমা নগরীর আদলে গড়ে ওঠা এ তীর্থস্থান বর্তমানে দেশের ক্যাথলিক খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় মিলনস্থল।
প্রতিবছর অক্টোবর মাসের শেষ বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার এ তীর্থোৎসব অনুষ্ঠিত হয়। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি এ আয়োজন বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সহাবস্থানের একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
জেলা প্রশাসন আশা করছে, সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় এবারের তীর্থোৎসব শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হবে।
সদ্য সংবাদ/ এআর