ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) শনিবার গভীর রাতে কঠোর নির্দেশ জারি করে দেশের সব যুদ্ধ ইউনিট ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখার ঘোষণা দিয়েছে। ইরানি গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
আইআরজিসির শীর্ষ নেতৃত্ব রাজধানীর কেন্দ্রস্থলসহ তথাকথিত ‘সংবেদনশীল এলাকা’ রক্ষায় তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সদর দপ্তর।
এই পদক্ষেপ এমন এক সময় নেওয়া হলো, যখন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তেহরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে দ্রুত সামরিক হামলার সম্ভাবনার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
ইরান-ইরাক আট বছরব্যাপী যুদ্ধের পর এই প্রথম এমন নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তেহরান সিটি করপোরেশন জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সব জনসাধারণের আশ্রয়কেন্দ্র ও সুরক্ষিত মেট্রো স্টেশন সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় ২৫ লাখ মানুষকে আশ্রয় দিতে এসব কেন্দ্রে খাদ্য ও চিকিৎসা সরঞ্জাম মজুতের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। প্রস্তুতি কার্যক্রম শুরুর পর রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল ও স্বাভাবিক কার্যক্রমে স্পষ্ট বিঘ্ন দেখা গেছে।
এই ব্যবস্থা তেহরানের উদ্বেগের মাত্রা স্পষ্ট করে তুলছে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরের দিকে একটি নৌবহর এগিয়ে আসছে—এমন সতর্কবার্তার পর হুমকির আশঙ্কা আরও বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে আলাদাভাবে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এমন কিছু বিকল্প পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ইরানের সরকারি স্থাপনা এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যাপক আকারের বোমা হামলার সম্ভাবনাও।