কেপ ভার্দের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ড্র করার হতাশা কাটিয়ে বিশ্বকাপে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে স্পেন। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে সৌদি আরবকে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে পূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নিয়েছে তারা। ৬৫তম জন্মদিনে ডাগআউটে বসে দলের এমন পারফরম্যান্স দেখে বিশেষ আনন্দ পেয়েছেন স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।
আটলান্টা স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই সৌদি আরবের রক্ষণভাগের ওপর চাপ সৃষ্টি করে স্পেন। তার ফলও আসে দ্রুত। ম্যাচের ১০ মিনিটে মিকেল ওইয়ারসাবালের নিখুঁত ক্রস থেকে দূরের পোস্টে স্লাইড করে বল জালে জড়ান তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল।
১৮ বছর ৩৪৩ দিন বয়সী এই উইঙ্গার গোল করে অনন্য এক কীর্তিতে নাম লেখান। ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে পেলের পর দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে ১৮ বছর বা তার কম বয়সে বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে দলের প্রথম গোল করার রেকর্ড গড়েন তিনি।
ইয়ামালের গোলের পর নিজের গল্প লিখতে শুরু করেন ওইয়ারসাবাল। ২১ মিনিটে প্রথম গোল করার পর ২৪ মিনিটে মার্ক কুকুরেয়া ও দানি অলমোর পাস থেকে দ্বিতীয় গোল করে জোড়া গোল পূর্ণ করেন তিনি। এর মাধ্যমে স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে সবচেয়ে কম সময়ে দুই গোল করার নতুন রেকর্ড গড়েন এই ফরোয়ার্ড। তিনি ভেঙে দেন ১৯৩৪ সালের ২৭ মে ব্রাজিলের বিপক্ষে হোসে ইরারাগোরির গড়া ২৫ মিনিটের পুরোনো রেকর্ড।
শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ম্যাচের প্রথম ২৪ মিনিটের মধ্যেই দুটি গোল ও একটি সহায়তা করার কীর্তিও গড়েন ওইয়ারসাবাল। ৩৬ মিনিটে তার একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে না এলে প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিকের দেখা পেতে পারতেন তিনি।
প্রথমার্ধে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পর বিরতি শেষে কৌশলগত কারণে লামিনে ইয়ামাল ও মিকেল ওইয়ারসাবালকে তুলে নেন স্প্যানিশ কোচ। তাদের জায়গায় নামানো হয় ফেরান তোরেস ও ইয়েরেমি পিনোকে। তবে আক্রমণের ধার কমেনি স্পেনের। ৪৯ মিনিটে কুকুরেয়ার জোরালো ভলি সৌদি গোলরক্ষকের স্পর্শের পর ডিফেন্ডার হাসান আল-তামবাক্তির গায়ে লেগে জালে জড়ালে আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৪-০।
বড় ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের গতি কিছুটা কমিয়ে আনে স্পেন। মাঝমাঠে রদ্রি, পেদ্রি ও দানি অলমোর নিয়ন্ত্রণে পুরো ম্যাচজুড়েই সৌদি আরবকে চাপে রাখে তারা। পরে নিকো উইলিয়ামস মাঠে নামলে সৌদি রক্ষণভাগ আরও গভীরে সরে যেতে বাধ্য হয়। অন্যদিকে রক্ষণে পাউ কুবারসির পরিণত পারফরম্যান্সে স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমনকে খুব বেশি পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়নি। ম্যাচের ৮০ মিনিটে আবদুল্লাহ আল-হামদানের শট ঠেকিয়েই প্রথম উল্লেখযোগ্য সেভ করতে হয় তাকে।
যোগ করা সময়ে ফাবিয়ান রুইসের পাস থেকে বল জালে পাঠান ফেরান তোরেস। তবে গোলটি নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ভিডিও সহকারী রেফারির পর্যালোচনা চলে। শেষ পর্যন্ত অফসাইডের সিদ্ধান্তে গোল বাতিল হলে স্পেনকে ৪-০ গোলের জয় নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়।