ইয়েমেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় তেলসমৃদ্ধ হাদরামাউত প্রদেশে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২০ জনে দাঁড়িয়েছে। এসব হামলায় আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিকও রয়েছে। একই সময়ে প্রদেশজুড়ে স্থলভাগে সরকারি বাহিনী ও দক্ষিণ ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি)–সমর্থিত যোদ্ধাদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ চলছে।
শনিবার, ৩ জানুয়ারি, বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে আল জাজিরা জানায়, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় হাদরামাউতের দুটি সামরিক ঘাঁটিতে অন্তত ২০ জন এসটিসি সদস্য নিহত হয়েছেন। এসটিসির এক সামরিক কর্মকর্তা ও চিকিৎসা সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রদেশটির সবচেয়ে বড় সামরিক স্থাপনা আল-খাশা ক্যাম্পে একের পর এক সাতটি বিমান হামলা চালানো হয়। পাশাপাশি সেয়ুন সামরিক ঘাঁটিতেও প্রাণঘাতী হামলার খবর পাওয়া গেছে।
ওয়াদি হাদরামাউত ও হাদরামাউত মরুভূমি অঞ্চলে এসটিসির প্রধান মোহাম্মদ আবদুল মালিক অভিযোগ করেন, সৌদি যুদ্ধবিমানগুলো ধারাবাহিকভাবে এসটিসির অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। আল-খাশা ঘাঁটির কাছের একটি গ্রামের বাসিন্দা রেয়াদ খামেস বলেন, তারা আকাশে আলো ঝলকানি ও বিস্ফোরণ দেখতে পাচ্ছেন এবং চেকপয়েন্টে আঘাত হেনে পথ পরিষ্কার করা হচ্ছে, যাতে সৌদি সমর্থিত বাহিনী অগ্রসর হতে পারে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, প্রদেশটির সামরিক ঘাঁটি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে এসটিসি-সমর্থিত বাহিনী এবং ইয়েমেনি সরকারি সেনাদের মধ্যে ব্যাপক লড়াই চলছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বিস্তারে উভয় পক্ষই মরিয়া হয়ে উঠেছে।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই শুক্রবার দক্ষিণ ট্রানজিশনাল কাউন্সিল দুই বছরের একটি অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের ঘোষণা দিয়েছে। এ সময় তারা ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চল শাসন করবে এবং পরে দক্ষিণ ইয়েমেনের স্বাধীনতা প্রশ্নে গণভোট আয়োজন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
গত মাসে এসটিসি হাদরামাউত ও পূর্বাঞ্চলীয় আল-মাহরাহ প্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা দখলে নেওয়ার পর ইয়েমেন সরকার ও এসটিসির মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। সৌদি আরব এসব অঞ্চলকে ‘রেড লাইন’ হিসেবে বিবেচনা করে, কারণ এগুলো দেশটির সীমান্তের কাছাকাছি এবং ইয়েমেনের অবশিষ্ট জ্বালানি সম্পদের বড় একটি অংশ এখানেই অবস্থিত।