মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, 'সংস্কৃতির সব প্রকাশ যেন নির্বিঘ্ন হয়, বাঙালি যেন শঙ্কামুক্ত জীবন যাপন করতে পারে। আমরা শুনতে চাই সমাজের অভয়বাণী—সবাই যেন নির্ভয়ে গান গাইতে পারে।'
পহেলা বৈশাখকে বাঙালির জাতিসত্তা উন্মোচনের এক বিশেষ দিন হিসেবে উল্লেখ করে সারওয়ার আলী বলেন, 'গত ছয় দশকের ধারাবাহিকতায় এই দিনটি অতীতের গ্লানি ও জরা মুছে নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়। গত বছরেও রমনায় নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত হয়েছে নববর্ষের অনুষ্ঠান।'
তবে সাম্প্রতিক কিছু সহিংস ঘটনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বিজয় দিবসের আয়োজনের পর গভীর রাতে ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনে হামলা, বাদ্যযন্ত্র ভাঙচুর, নালন্দার শিশুপুস্তক ছিন্নভিন্ন করা এবং একই রাতে দুই শীর্ষ সংবাদপত্র ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা উল্লেখ করেন তিনি। পরদিন 'উদীচী'তে হামলার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন।
সারওয়ার আলী বলেন, 'বাংলা সংগীত বাঙালির আনন্দ-বেদনা, মিলন-বিরহ ও সংগ্রামের সঙ্গী। মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সব অধিকার অর্জনের পথে এই সংগীত মানুষকে শক্তি জুগিয়েছে। কিন্তু অপশক্তি ভয় দেখিয়ে মানুষকে এই সংগীত থেকে দূরে সরাতে চায়, শিকড় বিচ্ছিন্ন করতে চায় আমাদের সংস্কৃতিকে।'
সমাজে অসহিষ্ণুতা বৃদ্ধি এবং মতপ্রকাশে বাধার আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিশ্ব পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, 'বিভিন্ন নিপীড়ন-সংঘাতে আজ বিশ্ববাসী আতঙ্কিত। নতুন বছরের প্রভাতে তাই সবার একটাই প্রত্যাশা—বিশ্বশান্তি।'
তিনি বলেন, 'আমরা এমন এক সমাজ চাই, যেখানে সংবাদকর্মীরা নির্ভয়ে সত্য প্রকাশ করতে পারবেন, মানুষ স্বাধীনভাবে গান গাইতে পারবে, সংস্কৃতির সব প্রকাশ হবে নির্বিঘ্নে।'
উল্লেখ্য, আজ সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে রমনার বটমূলে ছায়ানটের আয়োজন শুরু হয়। জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে ৮টা ২৫ মিনিটে শেষ হয় অনুষ্ঠান।